মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে সাইবার হামলার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইলেকশন কমিশন (এফইসি)।
হ্যাকিংয়ের কারণে কমিশনের প্রচার ব্যয় সংক্রান্ত ই-ফাইলিং সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এফইসির এক অভ্যন্তরীণ ইমেইল থেকে তারা এ তথ্য জানতে পেরেছে।
মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকবে কি না, তা নির্ধারণ হবে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে।
ভোটের শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক দল, ‘সুপার প্যাক’ এবং গোপনে অর্থ যোগান দেওয়া ‘ডার্ক মানি’ গোষ্ঠীগুলো রেকর্ড পরিমাণ অর্থ খরচ করছে। ঠিক এই সময়ে এফইসির নির্দিষ্ট সিস্টেম বিকল থাকায় প্রচার খরচ সংক্রান্ত তাৎক্ষণিক বিবরণ প্রকাশ আটকে গেছে।
এক বিবৃতিতে এফইসি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের ইলেকট্রনিক ফাইলিং সিস্টেম বন্ধ রয়েছে এবং সেবা চালুর জন্য তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীরা কাজ করছেন। তবে ওয়েবসাইট থেকে পুরোনো প্রতিবেদন খোঁজার সুযোগ সচল রয়েছে।
সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় সিস্টেমটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার রাতে এফইসি জানায়, সমস্যাটি চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তা সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে তাৎক্ষণিক মন্তব্যের অনুরোধে কমিশন কোনো সাড়া দেয়নি।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি ভোটগ্রহণে তাদের কোনো ভূমিকা নেই। ফলে সাধারণ মানুষের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিভ্রাটের কোনো প্রভাব পড়বে না।
তবে ই-ফাইলিং বন্ধ থাকায় রাজনৈতিক দল ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলো ২৪ ও ৪৮ ঘণ্টার খরচের জরুরি বিবরণী জমা দিতে পারছে না। এসব বিবরণীতে কোন আসনে কত টাকা খরচ হচ্ছে তা তুলে ধরা হয়।
রাজনৈতিক অর্থায়নসংক্রান্ত কমপ্লায়েন্স প্রতিষ্ঠান ‘এমবিএ কনসাল্টিং গ্রুপ’-এর প্রধান নির্বাহী স্টিভেন মিলি বলেন, “গত ২৬ বছরের পেশাগত জীবনে আমি এমন ঘটনার মুখোমুখি কখনো হইনি।”
কমিশনের এক কর্মকর্তা বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স প্রতিষ্ঠানকে পাঠানো ইমেইলে লেখেন, “একজন সাইবার হামলাকারী সিস্টেমে ঢোকার চেষ্টা চালিয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সাময়িকভাবে ওয়েব সেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।”
যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ) ও এফবিআই এ বিষয়ে মন্তব্য না করে বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘অ্যাডইমপ্যাক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রচারের বিজ্ঞাপন ও আগাম বুকিং বাবদ এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১২১ কোটি ডলার খরচ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচনের রেকর্ড গড়ল।
এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনে সব আসন মিলিয়ে মোট ১ হাজার ১২০ কোটি ডলার খরচের রেকর্ড ছিল, যা ছাপিয়ে গেছে এবার।
২০২৪ সালের নির্বাচনে কেবল ডনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের প্রেসিডেনশিয়াল লড়াইয়েই খরচ হয়েছিল ৩২০ কোটি ডলার।
বেশ কয়েকটি রিপাবলিকান ঘাঁটিতে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উভয় পক্ষের প্রচারের খরচ অভাবনীয় হারে বেড়েছে।
বিশেষ করে ধনকুবের ও বড় করপোরেটদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা ‘সুপার প্যাক’ গোষ্ঠীগুলো এই বিশাল অর্থ খরচে নেতৃত্ব দিচ্ছে।
নির্বাচনি খরচ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ওপেনসিক্রেটস’-এর গবেষণা পরিচালক ব্রেনডান গ্লাভিন জানান, শেষ সপ্তাহে সুপার প্যাক ও ডার্ক মানি গোষ্ঠীগুলো দৈনিক গড়ে ৫ কোটি ডলারের বেশি খরচ করছে। শুধু ২০ অক্টোবরেই ২৫ কোটি ডলারের বেশি খরচের তথ্য জমা পড়েছিল।
তিনি বলেন, “নির্বাচনের এই শেষ দিনগুলোতে কারা কত টাকা ঢালছে তা জানার একমাত্র উপায় ই-ফাইলিং। তাই এই মুহূর্তে সেবা বন্ধ থাকাটা ভোটারদের অন্ধকারে রাখার মত এক বড় উদ্বেগের বিষয়।”
সাইবার হামলা: যুক্তরাষ্ট্রে ভোটের প্রচারের খরচ প্রকাশ বন্ধ
