ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে দুই শিশুসহ ১১ জন নিহত

যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহাল থাকা সত্ত্বেও দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। গতকাল সোমবার ভোরে দেশটির কফর রুম্মান শহরে চালানো ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় দুই শিশু ও দুই স্বাস্থ্যকর্মীসহ অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার ভোররাতে কফর রুম্মান শহরের একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিশুসহ নয়জন প্রাণ হারান এবং আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন। এর কিছুক্ষণ পর একই শহরে একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে গাড়িতে থাকা দুজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন। ইসরায়েলি বাহিনী ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই থামানোর লক্ষ্যে গত জুনে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। গত রোববারও দক্ষিণ লেবাননের আরব সালিম এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছিলেন। গতকাল সোমবার নতুন দফা হামলার আগে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে অনলাইনে কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা বা এলাকা খালি করার নোটিশ দেওয়া হয়নি। হামলায় শিশু ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মৃত্যু এবং পূর্ব সতর্কবার্তা না দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে ইসরায়েলি বাহিনীর এক মুখপাত্র দক্ষিণ লেবাননের অন্য একটি শহরের অধিবাসীদের বাড়িঘর ছেড়ে সরে যাওয়ার নোটিশ জারি করেন। ইসরায়েলের দাবি, ওই এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা রয়েছে এবং সেখানে হামলা চালানো হবে। উল্লেখ্য, ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হওয়ার দুদিন পর- গত ২ মার্চ- ইসরায়েলে রকেট হামলা চালায় হিজবুল্লাহ। এর জবাবে ইসরায়েল আকাশ ও স্থলপথে আক্রমণ শুরু করে, যার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে অন্তত ৪ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জুন মাসের যুদ্ধবিরতির ফলে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলেও, দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে রাখা ইসরায়েলি সেনারা তাদের নিজেদের ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এর ভেতরের গ্রামগুলো ধ্বংস করে চলেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এই নিরাপত্তা অঞ্চলের ভেতরে এবং এর উত্তরের এলাকাগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে, যার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো পূর্ব সতর্কতা দেওয়া হচ্ছে না। তথ্যসূত্র: রয়টার্স