শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান বলেছেন, দেশের সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে কম সময়ে ও কম খরচে অধিক উৎপাদন বাড়াতে হলে উদ্ভাবন, জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটাতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি করতে হবে। গতকাল শুক্রবার ঢাকার মিরপুরে বিসিআইসি কলেজ ক্যাম্পাসে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত শিক্ষাথীদের ‘উদ্ভাবনী মেলার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। শিল্প সচিব বলেন, উৎপাদনশীলতা হলো বিদ্যমান সম্পদকে সর্বোত্তম ব্যবহার করে কম খরচে ও কম সময়ে উৎপাদন বাড়ানো এবং কাক্সিক্ষত সুফল অর্জন করা। দেশের সম্পদ ও সক্ষমতাকে বিবেচনায় নিয়ে সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মেলায় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে তুলে ধরছে। দেশের বিভিন্ন সমস্যা কীভাবে উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে সমাধান করা যায়, শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত প্রকল্পগুলোতে তার প্রতিফলন রয়েছে। শিল্প সচিব আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, বর্জ্য কমানো, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বর্জ্যকে সার হিসেবে ব্যবহারের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ উৎপাদনশীলতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। আমাদের নতুন প্রজন্মের প্রতিটি উদ্ভাবনী চিন্তার মধ্যে দেশের সমস্যা সমাধানের যে প্রচেষ্টা রয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্তমান প্রজন্মকে সুযোগ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়ে শিল্প সচিব বলেন, একটি প্রজন্মের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এমন একটি সিঁড়ি তৈরি করে দেওয়া, যার মাধ্যমে তারা আরও উন্নত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আমাদের তরুণদের মেধাকে সর্বোত্তম কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জন যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘স্কিলেজ’ (স্কিল+নলেজ) ধারণার কথা উল্লেখ করে বলেন, শুধু নলেজ থাকলে হবে না। জ্ঞানের পাশাপাশি তরুণদের দক্ষ করে তুলতে হবে। জ্ঞান ও দক্ষতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মানবসম্পদই দেশের সার্বিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। শিল্প সচিব জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসের মেলায় প্রদর্শিত বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প ঘুরে দেখার জন্য উপস্থিত সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন থেকে নতুন চিন্তা, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. নুরুজ্জামান, বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান, বিসিআইসি কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সচিব মেলার উদ্বোধন করেন। মেলায় ৫০টি স্টলে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প স্থান পেয়েছে। সচিব মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এর আগে সকালে এক বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি রাজধানীর মিরপুর বিসিআইসি কলেজ গেট থেকে শুরু হয়ে মিরপুর ১ নম্বর সনি সিনেমা হল হয়ে পুনরায় কলেজে গিয়ে শেষ হয়।
উদ্ভাবন ও দক্ষতার সমন্বয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে: শিল্প সচিব
