প্যারাগুয়ের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা অভিশংসিত হয়েছেন এবং তাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। আর্থিক জালিয়াতির কারণে গৎ সপ্তাহের শুরুর দিকে ‘উয়েনো ব্যাংক’ নামের একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়। এর পর শুক্রবার পেনা গ্রেপ্তার হন। তার নিজের দলের আইনপ্রণেতাসহ অন্যান্য আইনপ্রণেতারা সর্বসম্মতিক্রমে তাকে পদ থেকে অপসারণের পক্ষে ভোট দেন। উল্লেখ্য, এই ব্যাংকটির সাথে পেনার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের যোগসূত্র রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার পেনা পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে সিনেটররা তাকে অভিশংসিত করেন এবং অসদাচরণের দায়ে অভিযুক্ত করেন। এর ফলে তিনি সেই আইনি সুরক্ষা বা দায়মুক্তি হারিয়েছেন, যা সাধারণত সাবেক প্রেসিডেন্টদের দেওয়া হয়ে থাকে। পেনা গৎ বছর পর্যন্ত ব্যাংকটির মালিকানাধীন কোম্পানির শেয়ারধারী ছিলেনÑযেকোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ২০২১ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে উয়েনো ব্যাংক দ্রুতগতিতে বড় হতে থাকে। তবে ব্যাংখটির ঋণ প্রদানের পদ্ধতি এবং প্যারাগুয়ের রাজনৈতিক ও আর্থিক অভিজাত শ্রেণির সঙ্গে এর সম্পর্ক নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এই অভিজাত শ্রেণির মধ্যে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেনা। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্লোস কারভাল্লো, যিনি ২০২৩ সাল পর্যন্ত উয়েনোর নেতৃত্বে ছিলেন। গত শুক্রবার প্রসিকিউটররা কারভাল্লোর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ব্যাংকটি যাতে পুরোপুরি বিলুপ্ত না হয়ে যায়, সেজন্য কর্তৃপক্ষ যখন শেষ প্রচেষ্টায় আইনি কার্যক্রম শুরু করে, ঠিক তখনই কারভাল্লো পদত্যাগ করেন। উয়েনোর আটজন সাবেক কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। পেনার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের আরও কয়েকজন পদত্যাগ করেছেন; এঁদের মধ্যে রয়েছেন তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, চিফ অব স্টাফ এবং দুজন উপদেষ্টা। পেনাকে অপসারণের পেছনে থাকা অভিশংসন অভিযোগে বলা হয়েছে যে, তিনি স্বার্থের সংঘাত ঘটিয়েছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকি প্রক্রিয়ায় কারসাজি করেছেন, পেনশন তহবিল অন্য খাতে সরিয়ে ফেলেছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে জড়িত একটি প্রাতিষ্ঠানিক জালিয়াতি বা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। সরকারি কৌঁসুলি সিলভিয়া মার্গারিটা গঞ্জালেজ ভেস্টার জানিয়েছেন, বিশ^াসভঙ্গ, প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়া এবং তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে গতকাল শনিবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। পেনার ডেপুটি পেদ্রো আলিয়ানা নতুন অন্তর্র্বতীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি এই কেলেঙ্কারিতে ক্ষতিগ্রস্ত লাখ লাখ মানুষকে ‘অসহায় অবস্থায় ফেলে না যাওয়ার’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আলিয়ানা ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেছেন, “আর্থিক ধসের কারণে আমার যেসব দেশবাসী এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের পুরোপুরি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”
গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট
