জামালপুরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ, দুই কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ

Oplus_16908288

নিজস্ব সংবাদদাত
জামালপুরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় দুই কিশোরের ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল ১২ আগস্ট দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এই দণ্ডাদেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চর গজারিয়া এলাকার মো. নজরুল ইসলামের ছেলে সৈকত ইসলাম ওরফে ডালিম হাসান ও একই এলাকার আক্তারুজ্জামানের ছেলে আসাদ। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর বিকেলে ভুক্তভোগী দশম শ্রেণির ছাত্রী স্কুলছুটি শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তাকে জোর করে সিএনজিতে তোলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় আসামিরা। এর আগে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যান হবার পর ওই স্কুলছাত্রীর পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন ডালিম হাসান। মেয়ের বয়স কম থাকায় বিয়ের প্রস্তাবও নাকচ করে দেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন ডালিম হাসান। অপহরণ ও ধর্ষণে সহযোগিতা করেন তার বন্ধু আসাদ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে অপহরণের পরদিন জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. ফজলুল হক জানান, ভুক্তভোগী স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন সৈকত ইসলাম ওরফে ডালিম হাসান। তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন আসামি আসাদ। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কিশোর আসামি সৈকত ইসলাম ডালিম হাসানকে নারী ও শিশু আইনের ১০/৭ ধারা মোতাবেক ১০ বছরের আটকাদেশ এবং একই আইনের ধর্ষণের দায়ে ৯ এর ১ ধারা মোতাবেক ১০ বছরের আটকাদেশ প্রদান করা হয়। অপর আসামি আসাদ যেহেতু এই ধর্ষণের কাজে এবং অপহরণের কাজে সহযোগিতা করেছে তাকে ওই একই আইনে ৭ এর ৩০ ধারা মোতাবেক ১০ বছরের আটকাদেশ প্রদান করা হয়। এ মামলায় আট জন সাক্ষী আদালতে তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য ও সমস্ত তথ্যউপাত্ত পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় প্রদান করেন আদালত।