রাকিবুল হাসান রিফাত:
জামালপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার যাত্রীরা দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের বর্তমান সময়সূচি নিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা প্রতিদিনই নির্ধারিত সময়ের সাথে বাস্তব সময়ের অসামঞ্জস্যতার কারণে বিপাকে পড়ছেন। ফলে ট্রেনের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের দাবিতে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়ে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। আবার কিছু ট্রেনের সময় এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের জন্য একেবারেই অনুপযোগী। এতে করে সময়মতো কর্মস্থল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন নিয়মিত যাত্রী ইসরাত জাহান বলেন, “বর্তমান সময়সূচি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সকালে অফিস ধরতে হলে অনেক আগে বের হতে হয়, আবার ফেরার সময় ট্রেনের দেরির কারণে পরিবারকে সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।”
শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, পরীক্ষার সময় বা ক্লাসে অংশ নিতে গিয়ে তারা প্রায়ই বিপাকে পড়েন। এতে করে তাদের শিক্ষাজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও সময়সূচির অসামঞ্জস্যতা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
স্টেশন সূত্রে জানা যায়, জামালপুর থেকে বর্তমানে চারটি আন্তনগর ট্রেন ঢাকা রুটে চলাচল করে। এর মধ্যে জামালপুর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সকাল ১০টায় ছেড়ে বিকাল ৩টায় জামালপুরে পৌঁছায় এবং জামালপুর থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ঢাকায় পৌঁছে। যমুনা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১১টা ৩০ মিনিটে জামালপুরে পৌঁছায় এবং জামালপুর থেকে রাত ৩টা ১০ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৯টায় ঢাকায় পৌঁছে। ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ১১টা ৪০ মিনিটে জামালপুরে পৌঁছায় এবং জামালপুর থেকে সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে। এছাড়া তিস্তা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে সকাল ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে জামালপুরে পৌঁছায় এবং জামালপুর থেকে বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছে।
যাত্রীরা বলছেন, এসব সময়সূচির বেশিরভাগই যাত্রীবান্ধব নয়। বিশেষ করে গভীর রাত বা ভোরবেলার ট্রেন ধরতে গিয়ে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন। এদিকে আরও বড় অভিযোগ হচ্ছেÑঢাকা থেকে দেশের অধিকাংশ জেলায় রাত্রীকালীন ট্রেন চলাচল করলেও জামালপুর রুটে এখনো কোনো রাতের ট্রেন চালু হয়নি। ফলে রাতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। যাত্রীরা বিশেষভাবে দাবি জানিয়েছেন, জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটির সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হোক। তাদের মতে, ট্রেনটি যদি ঢাকা থেকে রাত ১১ টা থেকে ১২ টার মধ্যে ছেড়ে আসে, তাহলে কর্মজীবী মানুষ ছুটির দিন বা কর্মদিবস শেষে আরামদায়কভাবে ট্রেনে বাড়ি ফিরতে পারবেন এবং পরিবারের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন যাত্রীসুবিধা বাড়বে, অন্যদিকে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।
ঢাকাগামী যাত্রী মোঃ মাসুদ রানা বলেন, “রাতে যদি ট্রেন ছাড়ে, তাহলে অফিস শেষ করে সরাসরি স্টেশনে এসে ট্রেনে উঠতে পারব। এতে সময়ও বাঁচবে, ভোগান্তিও কমবে। ঢাকা থেকে প্রায় সব জেলাতেই রাতের ট্রেন রয়েছে, কিন্তু জামালপুরের জন্য নেই। এটি আমাদের জন্য বৈষম্যমূলক। জরুরি প্রয়োজনে রাতে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে।”
আরেকজন যাত্রী মোঃ সাইদুর রহমান জানান, “দিন শেষে রাতে বাড়ি ফেরার সুযোগ থাকলে আমাদের অনেক সুবিধা হতো। কিন্তু রাতের ট্রেন না থাকায় বাধ্য হয়ে বিকল্প ও ব্যয়বহুল পরিবহন ব্যবহার করতে হচ্ছে। ”
এ বিষয়ে জামালপুর জংশন রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন সুপারিন্টেনডেন্ট (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আখতার হোসেন সেখের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল বলে জানান। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।”
যাত্রীরা মনে করছেন, জামালপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও পরিবহন ব্যবস্থায় এই ধরনের অবহেলা অযৌক্তিক। তারা দ্রুত ট্রেনের সময়সূচি যুগোপযোগী করার পাশাপাশি ঢাকা-জামালপুর রুটে রাতের ট্রেন চালুর দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যাত্রীরা বলেন, তাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে যাতায়াতে স্বস্তি ফিরবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তন ও জামালপুর রুটে রাতের ট্রেন চালুর দাবিতে যাত্রীদের ক্ষোভ : দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান
