দক্ষিণ লেবাননে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ৩০ ইসরায়েলি সেনা ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৩৪৭ সেনা। গত সোমবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে দেশটির একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় লেবাননে সামরিক অভিযান কিছুটা কমিয়ে আনা হচ্ছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া শান্তি চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছে। তবে ইসরায়েল জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা কিছু এলাকায় তাদের সেনা মোতায়েন থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন। গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জবাবে আব্বাস আরাঘচি লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই চুক্তির ইতিবাচক প্রভাব লেবাননের স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও উন্নয়নে সহায়তা করবে। পরে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরির সঙ্গেও কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। আগামী ৬০ দিন ধরে চলমান আলোচনার সময় তা বহাল থাকবে। তবে এর মধ্যেই ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা লেবাননের কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের সেনা মোতায়েন অব্যাহত রাখবে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে লেবানন, সিরিয়া ও গাজার কিছু এলাকায় তাদের সেনারা অবস্থান করবে। এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম মারিভের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ইয়েলো লাইন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সেনা প্রত্যাহারের কোনো নির্দেশ এখনো দেওয়া হয়নি।
দক্ষিণ লেবাননে সংঘর্ষে ইসরায়েল হারাল ৩০ সেনা সদস্য
