মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ২০২১ সালে মা ম্যান্ডি টিফির সঙ্গে মিলে ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড গ্লোবাল’ নামের একটি স্টার্টআপ গড়ে তুলেছিলেন পপতারকা সেলেনা গোমেজ। প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মাথায় সেই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেই এখন গুরুতর আইনি জটিলতায় পড়েছেন তিনি। ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার ফেডারেল আদালতে সেলেনার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পাঁচজন বিনিয়োগকারী। নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডাভিত্তিক এই বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, সেলেনার তারকাখ্যাতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে থাকা পঞ্চাশ কোটির বেশি অনুসারীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য সাফল্য নিয়ে তাঁদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। ২০২১ সালে যাত্রা শুরু করা ওয়ান্ডারমাইন্ডে সেলেনা সহপ্রতিষ্ঠাতা, চিফ ইমপ্যাক্ট অফিসার ও চিফ মার্কেটিং অফিসার হিসেবে যুক্ত ছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ সাফল্যের আশায় পাঁচ বিনিয়োগকারী মোট প্রায় ১২ লাখ ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন, যা এখন ফেরত চাইছেন তাঁরা ক্ষতিপূরণসহ। বিনিয়োগকারীদের দাবি, ব্র্যান্ডটির প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ও প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েই চুক্তি করেছিলেন সেলেনা। সেই প্রতিশ্রুতিতে ভরসা করেই তাঁরা অর্থ ঢেলেছিলেন প্রতিষ্ঠানে। তবে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ‘সেলেনা গোমেজ কাজ করার অঙ্গীকার করে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার ভান করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন।’ ২০২২ সালে ওয়ান্ডারমাইন্ড নিজেদের মূলধন প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বলে দাবি করেছিল, একই সঙ্গে জেপি মরগানের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করপোরেট অংশীদারত্ব, বিজ্ঞাপন চুক্তি, তারকাদের কভার স্টোরি এবং নতুন একটি অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল বিনিয়োগকারীদের। মামলায় বলা হয়েছে, এসব প্রতিশ্রুতির কোনোটিই শেষমেশ বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুরবস্থা এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে যে কর্মীদের বেতন কিংবা ফ্রিল্যান্সার-ভেন্ডরদের পাওনা পরিশোধের মতো মৌলিক দায়ও যথাসময়ে মেটানো যায়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে বিনিয়োগকারীরা বলেছেন, ‘এখানে লাভজনক তো দূরের কথা, কোনো বাস্তবমুখী বা নীতিগত উদ্যোগই ছিল না।’ মামলায় সেলেনার পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে তাঁর মা ও প্রতিষ্ঠানের সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যান্ডি টিফি এবং সাবেক ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েল পিয়ারসনকে। তাঁদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, আইনগত প্রতারণা ও চুক্তি ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, সেলেনা, ম্যান্ডি ও পিয়ারসন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় নব্বই শতাংশ শেয়ারের মালিক ছিলেন, আর পিয়ারসন নিউইয়র্ক সিটিতে নিজের বাসাভাড়া বাবদ মাসে প্রায় ষাট হাজার ডলার বিনিয়োগকারীদের অর্থ থেকে খরচ করতেন। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে দেন পিয়ারসন। বিনিয়োগকারীরা জানিয়েছেন, প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের সংকটময় অবস্থা তাঁদের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দ্য কাট সাময়িকীতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো প্রকাশ পায়, ওয়ান্ডারমাইন্ড চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেখানে ম্যান্ডি টিফির মাদকাসক্তি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার পাশাপাশি মায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে সেলেনার দায়িত্ব এড়িয়ে চলার বিষয়টিও উঠে এসেছিল। পপতারকা ও অভিনেত্রী পরিচয়ের বাইরে সফল বিউটি ব্র্যান্ড ‘রেয়ার বিউটি’র প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে বিশ^জুড়ে সুপরিচিত সেলেনা গোমেজ। ২০২৪ সালে বিলিয়নিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করে বিশে^র অন্যতম ধনী শিল্পীর তালিকায়ও নাম লিখিয়েছেন তিনি। নিজের প্রতিষ্ঠিত আরেকটি প্রতিষ্ঠানের এমন দুরবস্থা প্রকাশ্যে আসায় স্বাভাবিকভাবেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। মামলা ও ওয়ান্ডারমাইন্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন পর্যন্ত সেলেনা গোমেজ কিংবা তাঁর কোনো প্রতিনিধির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিনিয়োগকারীরা তাঁদের মূল বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ আদায়ের জন্য আদালতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
পপতারকা সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা
