টানা বৃষ্টি ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যার প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে আবারও অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও রাজশাহীর বাজারে প্রায় সব ধরনের সবজি, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম ও মুরগির দাম বেড়েছে। কোথাও কোথাও এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি পণ্যের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। রাজশাহীতে পেঁপে, পটল, চিচিঙ্গা, ঢ্যাঁড়স ও ঝিঙে ছাড়া অধিকাংশ সবজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। কাঁচা মরিচের দাম উঠেছে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা কেজি। গতকাল শনিবার রাজধানীর মিরপুর-১১ ও মুসলিম কাঁচাবাজার এবং রাজশাহীর সাহেববাজার ও আশপাশের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। রাজশাহীর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামে সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে। বেগুন ১১০ থেকে ১২০ টাকা, শসা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, টমেটো ২২০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা এবং বরবটি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোল ও কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামে পেঁপে ৩৫ টাকা, পটল ৫০, চিচিঙ্গা ৫০, ঢ্যাঁড়স ৬০ এবং ঝিঙে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। পেঁয়াজের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় উঠেছে। আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। রাজধানীর বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। কাঁচা মরিচ ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দল ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং বেগুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন জেলায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে বাজারে সবজিসহ কৃষিপণ্যের সরবরাহ কমেছে। একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। রাজশাহীর সবজি বিক্রেতা জসিম বলেন, “অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে হু হু করে সবজির দাম বেড়েছে। দাম বাড়ায় আমাদের বেচাকেনাও অনেক কমেছে। ক্রেতারা আগে বেশি করে বাজার করলেও এখন অল্প করে কিনছেন।” আরেক বিক্রেতা সালাম বলেন, “দুই সপ্তাহের ব্যবধানে রাজশাহীর সবজির বাজারে অর্ধেকের বেশি দাম বেড়েছে। যে সবজি ৪০ টাকা ছিল, সেটিই এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ৭০ থেকে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায় উঠেছে।” বাজারের এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রাজশাহীর তেরোখাদিয়া এলাকার রাবেয়া বলেন, “বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। এভাবে দাম থাকলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের চলা খুব কঠিন হয়ে পড়বে।” দাম বেশি হওয়ায় তিনি শুধু আলু কিনে বাড়ি ফিরেছেন। চাকরিজীবী রবিউল আলম তুষারের অভিজ্ঞতাও একই। তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ বাজার করা যেত, এখন একই বাজার করতে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা লাগছে। সবজির বাজারে কোনো স্বস্তি নেই।” শুধু সবজি নয়, মুরগি ও ডিমের বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। রাজধানীতে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহীতে ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের বাজারেও দাম চড়া। রাজধানীতে ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহীতে ফার্মের লাল ডিম প্রতি ডজন ১৩২ টাকা এবং সাদা ডিম ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও কিছুটা দাম বেড়েছে। রাজধানীতে রুই ও কাতলা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। রাজশাহীতে রুই ২৯০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৪২০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০ থেকে ২১০ টাকা এবং পাঙাশ ১৯০ থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মুরগি বিক্রেতা রবিউল ইসলাম হৃদয় বলেন, “গত সপ্তাহের তুলনায় মুরগির দাম আরও বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশি মুরগির দাম। পোল্ট্রি মুরগির দামও কিছুটা বেড়েছে।” বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে নিত্যপণ্যের বাজারে দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দামও কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করছেন বিক্রেতারা।
বৃষ্টির ধাক্কায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি, কাঁচা মরিচ ৩০০ টাকার কাছাকাছি
