ভারতের সঙ্গে আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না: স্পিকার

বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর মতো নয়, বরং দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায় বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)। গতকাল সোমবার সকালে ভোলার সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক ছিল, তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন সেটি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক। আমরা সেই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক চাই না। দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে সমমর্যাদার ভিত্তিতে যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত, আমরা সেটাই চাই। বাংলাদেশ সকল রাষ্ট্রের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে চায়। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক রাখা প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত ভারতের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গত ১৭ বছর, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশের প্রতিটি স্তর ও বিভাগে ধস নেমেছে। হত্যা, গুম, খুন, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ড দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অনেক সময় লাগবে। জুলাই সনদ ও সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আইন-কানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে কিছু বিষয়ে মতৈক্য না হওয়ায় অসুবিধা দেখা দিয়েছে। নিজেকে নিরপেক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছি। আশা করি, বিএনপি ও বিরোধী দল মিলে যদি একটা সমঝোতায় আসে, তাহলে দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের দুঃশাসন থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে। নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকার ব্রিকসে যোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনা করলেও অন্যপক্ষ থেকে তেমন উৎসাহ দেখা যায়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সঠিক মর্যাদা দিয়ে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। এর আগে সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্পিকার। সভায় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম নবী আলমগীর, জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওসারসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।