মণিপুরে সহিংসতা চলছেই, এবার বিজেপিকে বয়কটের ডাক

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে সহিংসতা থামার কোনও লক্ষণ নেই। একের পর এক হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার মধ্যে রাজ্যটির প্রধান মেইতেই সংগঠন ক্ষমতাসীন বিজেপিকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গোষ্ঠীর ডাকা বনধের কারণে ইম্ফল উপত্যকা ও নাগা অধ্যুষিত এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, ভারতের মণিপুরে চলমান সহিংসতার মধ্যে গত রোববার প্রভাবশালী সংগঠন কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি (কোকোমি) রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন গোষ্ঠীর ডাকা বনধ কর্মসূচির কারণে ইম্ফল উপত্যকা ও নাগা এলাকায় স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইম্ফল উপত্যকাভিত্তিক মেইতেই নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত কোকোমি জনগণকে বিজেপি বা তাদের নেতাদের কোনও কার্যক্রমে অংশ না নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রী ইউনাম খেমচাঁদ সিং কেন বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন- এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দাবি করেছে সংগঠনটি। কোকোমির জ্যেষ্ঠ সদস্য শান্তা নাহাকপাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি এক ধরনের স্বেচ্ছাচারী সরকার, কারণ তিনি (সিং) রাজ্যের কোনও সম্প্রদায়ের নাগরিক সমাজ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। তিনি যেভাবে চলছেন, তা খুবই ব্যক্তিকেন্দ্রিক। ‘নার্কো-সন্ত্রাসী’ ও জঙ্গিদের অবাধ চলাচল এবং নিরীহ মানুষ হত্যার মূল ইস্যুটি তিনি ভুলে গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, কোকোমি ও রাজ্যের মানুষের মতে, ‘আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তথাকথিত ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ আনতে ব্যর্থ হওয়ায় বিজেপির সবাই দায়ী।’ নাহাকপাম বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী, বর্তমান সরকার ও আগের সরকার কেউই এই ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ নিয়ে কোনও জবাব দিতে পারেনি। তাই কোকোমি ও মণিপুরের জনগণ বিজেপির সব ধরনের কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা দিচ্ছে। আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই- বিজেপি বা তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ও নেতাদের কোনও কর্মকাণ্ডে অংশ নেবেন না।’ সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিষ্ণুপুর জেলায় কথিত কুকি সদস্যদের বোমা হামলার প্রতিবাদে ইম্ফল উপত্যকায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ওই হামলায় পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলে ও ছয় মাস বয়সী এক শিশুকন্যা নিহত হয় এবং তাদের মা আহত হন। এদিকে মেইতেই নারী সংগঠন ও বিভিন্ন নাগরিক সমাজ সংগঠন পাঁচ দিনের রাজ্যব্যাপী বনধের ডাক দিয়েছে, যার ফলে গত রোববার থেকে ইম্ফল উপত্যকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা ২৫ এপ্রিলের মধ্যে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কনথৌজাম জনস্বার্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সংগঠনগুলোকে এই বনধ কর্মসূচি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে পৃথক এক ঘটনায় মণিপুরের প্রধান নাগা সংগঠন ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল (ইউএনসি) গত শনিবার দুই নাগা ব্যক্তির হত্যার প্রতিবাদে ২০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ২৩ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত তিন দিনের বনধ ঘোষণা করেছে। নিহতদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য ছিলেন। তারা ইম্ফল থেকে উখরুল যাওয়ার পথে সন্দেহভাজন স্নাইপার হামলায় নিহত হন। ইউএনসি জানায়, ২৩ এপ্রিল নাগা অধ্যুষিত জেলা সদরগুলো এবং ইম্ফলে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করা হবে। সংগঠনটি আরও জানায়, শোকের এই তিন দিনে মণিপুরের নাগারা কুকি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সব ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত রাখবে। কিছু নাগা সংগঠন অভিযোগ করেছে, এই হত্যাকাণ্ডে ‘কুকি এসওও’ (সাসপেনশন অব অপারেশনস) গোষ্ঠীর বিদ্রোহীরা জড়িত। তবে কুকি সংগঠনগুলো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।