যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম বাড়ার গতি কমে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। বাড়ির ঋণের সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় মানুষ বাড়ি কেনার আগ্রহ হারাচ্ছে। গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান নেশনওয়াইড বিল্ডিং সোসাইটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবরে যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে এই বৃদ্ধির হার ছিল শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে অর্থনীতিবিদেরা অক্টোবরে বাড়ির দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, আগের মাসের তুলনায় অক্টোবরে বাড়ির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সেপ্টেম্বরে বাড়ির দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমেছিল। সংশোধিত হিসাবে এই পতনের হার আগের হিসাবের চেয়ে কম ছিল। অর্থনীতিবিদেরা অক্টোবরে বাড়ির দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমবে বলে ধারণা করেছিলেন। নেশনওয়াইডের প্রধান অর্থনীতিবিদ রবার্ট গার্ডনার বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো অনেক বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। তিনি আরো বলেন, এর ফলে যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়াতে পারে বলে আর্থিক বাজারে ধারণা জোরালো হচ্ছে। গার্ডনারের মতে, অন্যান্য অর্থনৈতিক তথ্যও বলছে, সামনের দিনগুলোতে বাড়ির বাজার আরও দুর্বল হতে পারে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর আর্থিক বাজারে চলতি বছর ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার কমাবে-এমন আশা কমে যায়। বরং সুদের হার বাড়তে পারে বলে ধারণা করতে শুরু করেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর প্রভাব পড়েছে বাড়ি কেনার ঋণের ওপর। এসব ঋণের সুদের হার সাধারণত দুই বা পাঁচ বছরের জন্য নির্দিষ্ট থাকে। তবে সুদের হার বাড়ার আশঙ্কায় নতুন ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে অধিকাংশ অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, আগামী সপ্তাহে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়াতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি। এ ক্ষেত্রে সুদের হার বর্তমান ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪ শতাংশ হতে পারে। এদিকে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ অনুমোদনের সংখ্যা কমে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা, ঋণের খরচ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারে বাড়ি কেনার চাহিদা কমছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম বৃদ্ধির হার দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
