তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশকে একটি প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশের দিকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এই রূপান্তরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দেশের সামগ্রিক লেনদেন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও ক্যাশলেস (নগদবিহীন) করা। বর্তমান সরকারের মেয়াদের মধ্যেই দেশ সর্বোচ্চ মাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল লেনদেনে প্রবেশ করবে। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের বইয়ের দোকান বাতিঘর ও প্রথমা প্রকাশনীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় আয়োজিত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা সম্প্রসারণে বাংলা কিউআর’ কোড ব্যবহার উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশই প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। কিন্তু বিগত দিনের সরকারগুলোর নীতিগত বিলম্ব বা ব্যর্থতার কারণে রাষ্ট্র ও জনগণকে এই আধুনিক প্রযুক্তির সাথে এতদিনেও পুরোপুরি সংযুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তারেক রহমানের সরকার এই জড়তা ভেঙেছে এবং ‘বাংলা কিউআর’ কোডের মাধ্যমে আজ ক্যাশলেস লেনদেনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আমি নিজে বহু বছর ধরে আজিজ সুপার মার্কেটের এই বইয়ের দোকানগুলোর একজন নিয়মিত ক্রেতা। এতদিন এখানে সবসময় নগদ টাকায় বই কিনেছি। কিন্তু আজ একজন ক্রেতা হিসেবে জীবনের প্রথমবারের মতো বাংলা কিউআর’ কোড স্ক্যান করে ক্যাশলেস প্রযুক্তিতে বই কিনলাম। প্রযুক্তি ব্যবহার করার আগ পর্যন্ত একজন সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে না যে লেনদেন কত সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হতে পারে। সর্বক্ষেত্রেই আমাদের প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। ডিজিটাল এই উদ্যোগের জন্য সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে জনগণের পক্ষ থেকে বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তথ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে এই কার্যক্রমে যুক্ত থাকা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ‘রকেট’ মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব ব্যাংক ও দেশের সাধারণ মানুষকে নগদ লেনদেন পরিহার করে প্রযুক্তিনির্ভর ‘বাংলা কিউআর’ কোডের মাধ্যমে লেনদেন করার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সহাবস্থানই সংকট উত্তরণের পথ: এদিকে, গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট ও ‘আল উম্মাহ জার্নালের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক পরিচয়কে ঘিরে সৃষ্ট নানা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান আধিপত্যে নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যেই নিহিত। মানবসভ্যতার টেকসই অগ্রযাত্রার জন্য বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভাষা, জাতিসত্তা, ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান মানবসভ্যতার স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের অংশ। মহান আল্লাহ মানুষকে বৈচিত্র্যের মধ্যেই সৃষ্টি করেছেন। ফলে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, জাতি বা মতাদর্শের পক্ষে সমগ্র বিশ্বে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনই তা মানবসভ্যতার কল্যাণও বয়ে আনতে পারে না। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বিশ্বের বহু সংঘাত পরিচয়ের সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে। কখনও জাতিগত, কখনও ধর্মীয়, কখনও ভাষাগত কিংবা সাংস্কৃতিক বিভাজন সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংকট উত্তরণে গবেষক, চিন্তাবিদ ও বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিদের একটি অভিন্ন মানবিক অবস্থান গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই হবে প্রধান ভিত্তি। তিনি বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে, যুদ্ধ, শক্তির প্রদর্শন কিংবা আধিপত্য কখনও সভ্যতার স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বরং মুক্ত চিন্তার বিনিময়, জ্ঞানচর্চা ও পারস্পরিক সম্মানই মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি-শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে। আমরা এমন একটি পৃথিবী চাই, যেখানে সব জাতি, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি নিজ নিজ মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং মানবসভ্যতার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশীদার হবে। তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সেখানে তিনি উপলব্ধি করেছেন, ইসলামের প্রকৃত শক্তি কেবল আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচারে নয়; বরং এর মানবিক চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও আত্মিক দর্শনের মধ্যেই নিহিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও চিন্তার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, জ্ঞানচর্চা এবং সভ্যতার সংলাপকে আরও সমৃদ্ধ করবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রফেসর ইয়াসিন আকতে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
সরকার প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী
