এক দেশে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হতে পারে না: শিক্ষামন্ত্রী

সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এক বাংলাদেশে ভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হতে পারে না। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী ২ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে। সাংবাদিকরা জানতে চান, জুলাই মাস সাধারণত দুর্যোগপ্রবণ সময়। বন্যার কারণে সিলেট বা চট্টগ্রামের কোনো এলাকায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে মন্ত্রণালয়ের কী প্রস্তুতি রয়েছে? জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে মন্ত্রণালয় থেকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অতীতেও পরীক্ষার সময় আমরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি এবং সফলভাবে তা মোকাবিলা করেছি। ইনশাআল্লাহ, এবারও পারব। তিনি বলেন, অভিন্ন প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে পাঠানো হয়েছে। তবে কোনো এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ না থাকলে জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে সেসব বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ধরুন কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে সকাল ১০টার পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলো না। প্রশ্নপত্র তখনো কেন্দ্রপ্রধানের কাছে সুরক্ষিত অবস্থায় থাকবে। প্রশ্নপত্র বাইরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। অভিন্ন প্রশ্নপত্র চালুর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আপনারা জানেন, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে এক ধরনের তুলনা চলে। কেউ বলে কোনো বোর্ডের প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ, আবার কোনো বোর্ডের প্রশ্ন কঠিন। কিন্তু একই দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্র হওয়া যৌক্তিক নয়। তিনি আরও বলেন, ও-লেভেল বা এ-লেভেলের মতো আন্তর্জাতিক পরীক্ষাগুলোতেও একই পরীক্ষার জন্য ভিন্ন প্রশ্নপত্র হয় না। সেই বিবেচনায় আমরা অভিন্ন প্রশ্নপত্রের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নের জন্য করা হয়েছে।