স্পেনগামী প্রমোদতরীতে হান্টা ভাইরাসের হানা, মৃত ৩

স্পেনগামী প্রমোদতরী এমভি হোন্ডিয়াসে প্রাণঘাতী হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৬ জন। এছাড়া আরও ২ জন অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বিষয়ক অঙ্গসংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য। আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দ থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপের উদ্দেশে রওনা হওয়া প্রমোদ তরী এমভি হোন্ডিয়াসে ২৩টি দেশের মোট ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। গত ২ মে জাহাজটিতে হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে।তবে যখন এই ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব ঘটে, সে সময় ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন না জাহাজটিতে, ২ মে’র আগেই বিভিন্ন দেশের বন্দরে নেমে গিয়েছিলেন ৩৪ জন যাত্রী। গত ২ মে হান্টা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪ জন। তাদের ম্যেধ একজনকে প্রথম জনকে দক্ষিণ আফ্রিকা, দ্বিতীয় জনকে নেদারল্যান্ডস এবং তৃতীয় জনকে সুইজারল্যান্ডে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চতুর্থ জনকে জার্মানির একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু তার টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসায় আর ভর্তি হতে হয়নি তাকে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ সংস্থা সিডিসি গতকাল শুক্রবার জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ওই প্রমোদতরীতে থাকা মার্কিন যাত্রীদের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এক বিবৃতিতে সিডিসি জানিয়েছে, জাহাজটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রীদের একটি মার্কিন সরকারি চিকিৎসা প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে সরাসরি সেই জাহাজ থেকে এনে নেব্রাস্কা অঙ্গরাাঝ্যের ওমাহায় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। প্রমোদতরী পরিচালনাকারী সংস্থা ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনসের মতে, জাহাজটিতে ১৭ জন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন।
হান্টা ভাইরাস কী?
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি নদীর নামানুসারে হান্টা ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে। এটি নির্দিষ্ট কোনো একক রোগ নয়, বরং ভাইরাসের একটি পুরো পরিবারকে বোঝায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্যমতে, এই ভাইরাসের ২০টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এগুলোর প্রায় সবকটিই ‘রোডেন্ট’ বা ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। সাধারণত ইঁদুর বা কাঠবিড়ালির শুকিয়ে যাওয়া মলমূত্র থেকে এই সংক্রমণ ছড়ায়। এই ভাইরাসের একটি বিশেষ ধরন ‘এন্ডিজ ভাইরাস’ নামে পরিচিত। ধারণা করা হয়, এটি মানুষের শরীর থেকে মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে, যদিও এমন ঘটনা খুব কমই দেখা যায়। হান্টা ভাইরাস ছড়ানোর ধরন সাধারণ ফ্লুর চেয়ে একেবারেই আলাদা। ফ্লু বা সর্দি-জ্বর সাধারণত হাঁচি-কাশির সময় নির্গত ক্ষুদ্র জলকণার (ড্রপলেট) মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কর্মকর্তা ডক্টর মারিয়া ভ্যান কেরখোভ বিবিসিকে বলেন, “আমরা এখানে একজনের থেকে অন্যজনের যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে করা সাধারণ মেলামেশার কথা বলছি না (বরং অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের কথা বলছি)।”এই ভাইরাসটি মূলত দুটি মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। প্রথমটি হলো হান্টা ভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম। এই রোগের শুরুতে সাধারণত ক্লান্তি, জ্বর এবং মাংসপেশিতে ব্যথা অনুভূত হয়। পরবর্তীতে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরানো, শরীরে কাঁপুনি এবং পেটের সমস্যা দেখা দেয়। তবে এর সবচেয়ে জটিল দিক হলো শ্বাসকষ্ট। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস নিতে প্রচণ্ড কষ্ট হতে পারে এবং এমন পরিস্থিতিতে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। ‘এন্ডিজ স্ট্রেইন’-এর কারণে হওয়া প্রধান রোগগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম, যার মৃত্যুহার ২০ থেকে ৪০ শতাংশ। এমভি হোন্ডিয়াসে যারা মারা গেছেন এবং যারা আক্রান্ত হয়েছেন— তারা সবাই এন্ডিজ ভাইরাসে আক্রান্ত। সূত্র : রয়টার্স