রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যার দায়ে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্তে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে আসামি করা হবে। গতকাল বুধবার নিজ কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, কারা আসামি হতে যাচ্ছেন, তা এখনই প্রকাশ করতে পারছি না। তবে তৎকালীন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনসহ অনেক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পেয়েছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পূর্ণ প্রতিবেদন পাওয়ার আশা করছি। এ নিয়ে তদন্ত সংস্থা কাজ করছে। নারকীয় এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে আমিনুল ইসলাম বলেন, পুরো পৃথিবীর মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়েছিল শাপলা চত্বরে ঘটে যাওয়া নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডটি। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় যাদেরই সম্পৃক্ততা মিলবে, আমরা তাদেরই আইনের আওতায় আনবো। সিভিলিয়ান কিংবা আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী- আমরা প্রত্যেককেই বিচারের আওতায় নিয়ে আসবো। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। গত ৫ এপ্রিল প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ৭ জুন দিন ঠিক করেন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেল। এ মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল। প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন র্যাবের কর্মকর্তা সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। তাকে এ মামলার আসামি করা হবে। প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে দেশজুড়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে রয়েছেন চৌধুরী মামুন। তিনি এ মামলার রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দিও দিয়েছেন।
শাপলা চত্বরে গণহত্যায় সম্পৃক্ততা পাওয়ায় সাবেক আইজিপি মামুনকে আসামি করা হবে
