ইলিশসহ সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের জন্য সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত। এই নিষেধাজ্ঞায় ভোলার উপকূলের প্রায় ৬৫ হাজার সমুদ্রগামী জেলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। নদীতে আগেই মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সাগরেও নিষেধাজ্ঞায় অভাব-অনটন ও অনিশ্চয়তা পড়ে বিপাকে জেলেরা। ভোলার দৌলতখান ও চরফ্যাশনের বিভিন্ন মাছ ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ঘাটে ফিরে এসেছে ফিশিং বোট। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। মৎস্য বিভাগ জানায়, প্রতি বছরের মতো এ বছরও ইলিশসহ ৪৭৫ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন ও বংশবিস্তার নিশ্চিত করতে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে অভয়াশ্রমে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতেও মার্চ-এপ্রিল সময়ে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় মৎস্যজীবীরা চরম সংকটে পড়েছেন। জেলে মোসলেউদ্দিন ও নাগর মাঝি বলেন, নদী ও সাগর-দুই জায়গাতেই মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়ের কোনো পথ নেই। ফলে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হবে। জেলে বশির মাঝি ও ছিদ্দিক বলেন, জেলেদের জন্য বরাদ্দ সহায়তা দ্রুত বিতরণ করা হলে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে দুর্ভোগ বাড়বে। ঘাটগুলোতে জেলেরা জাল বুনে সময় পার করলেও জীবিকা সংকটে তাদের দিন কাটছে কষ্টে। এ পরিস্থিতিতে জেলার ৬৩ হাজার ৯৫৪ জেলে পরিবারকে ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মৎস্য বিভাগ। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, দ্রুতই জেলেদের মধ্যে মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ করা হবে, এতে কিছুটা হলেও সংকট কমবে।
বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা
