স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতার কাছে যদি চাঁদাবাজি বেড়েছে সেই খতিয়ান থাকে আমার কাছে দিলে বা আপনারা দিলে সেই জায়াগাটা এড্রেস করতে পারবো। কোথায় চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেলো সেই তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেবো। ঈদুল আজহা উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কোরবানির পশুরহাটের নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি দাবি করেন, চাঁদাবাজির কারণে বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি কোথায় বেড়েছে, সেই তথ্য পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারব। গত ৩০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক কারবারি ও জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে। বিশেষ করে মাদক ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তারে জোর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদরদপ্তর, ডিএমপি ও জেলা পুলিশ সুপারদের নিয়মিতভাবে অভিযানের অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, সেই তালিকাটা আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে বিরোধীদলীয় নেতার কাছে যেতে পারে। অথবা পত্রিকায় আমরা প্রকাশ করতে পারি আরও বেশি করে। কোথায় চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেলো সেই তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেব। এর আগে রাজধানীর মিরপুর-১ এর শাহ আলী পাইকারী বাজার পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরিদর্শনকালে ব্যবসায়ীরা বিরোধী দলীয় নেতার কাছে অভিযোগ তুলে বলেন, সরকারিভাবে পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া দেওয়া রাজধানীর মিরপুর শাহআলী কাঁচা বাজারে দোকান দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিচ্ছে বরাদ্দ পাওয়া মালিকরা। যেটা ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ, সঙ্গে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। কারা করছে চাঁদাবাজি তা বলতেও ভয় পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এ প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় বলেন, প্রতিরোধ করতে হবে সম্মিলিতভাবে। ব্যবসায়ীরা চাইলে প্রতিরোধের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। তিনি সংসদের শেষ অধিবেশনের শেষ দিবসে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, আমি বলেছিলাম, সংসদ সদস্যরা যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে বাংলাদেশের চাঁদাবাজি হবে না, তাহলে কেউ করার সাহস করবে না। আমরা চাই, চাঁদাবাজিটা বন্ধ হোক।
ঈদ ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও মনিটরিং সেল চালু: ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে ঈদের সাত দিন আগে ও সাত দিন পরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ করা, পশুর হাট ব্যবস্থাপনা, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগের সাত দিন এবং পরের সাত দিন পুলিশ হেডকোয়ার্টারে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল চালু থাকবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার হটলাইন নম্বর সক্রিয় রাখা হবে। পুলিশ, র্যাব, আনসার-ভিডিপি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, জেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
পশুর হাটে বাড়ছে নিরাপত্তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ১৫টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ১১টি পশুর হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য মহানগর ও জেলা পর্যায়ে হাজারো হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। হাটগুলোতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় থাকতে বলা হয়েছে।
চাঁদাবাজি রোধে নজরদারি: কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ও নৌযানে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে এবং সিভিল ড্রেসে গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। কোথাও চাঁদাবাজির তথ্য পাওয়া গেলে হটলাইনে জানালেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, গত ৩০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলছে।
নিরাপদ ঈদযাত্রায় বিশেষ ব্যবস্থা: সড়ক ও নৌপথে দুর্ঘটনা কমাতে স্পিডগান ব্যবহার, রেকার প্রস্তুত রাখা এবং মহাসড়কের গর্ত দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেরি ও লঞ্চে পশু পরিবহনেও নজরদারি বাড়ানো হবে। ফায়ার সার্ভিসের জরুরি নম্বর ১০২ সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে বলেও জানান তিনি।
শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের আহ্বান: ঈদের আগে পোশাক শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ নিশ্চিত করতে মালিকপক্ষ, ব্যাংক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঈদের আগে যেন কোনো শ্রমিকের বেতন-বোনাস বকেয়া না থাকে- সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
চামড়া সংরক্ষণে বিনামূল্যে লবণ: কাঁচা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও সংরক্ষণে গ্রাম থেকে উপজেলা পর্যায়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোরবানির পর দুই ঘণ্টার মধ্যে লবণে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে ইমামদের মাধ্যমে মসজিদে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।
সীমান্ত ও সংখ্যালঘু ইস্যু: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্য সরকারের কাছে নেই। বিষয়টি কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে এবং সীমান্তে বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সম্ভাব্য কাঁটাতারের বেড়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার বিষয় এবং সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কোথায় চাঁদাবাজি বৃদ্ধি পেলো সেই তালিকা পেলে ব্যবস্থা নেবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
