নিজস্ব সংবাদদাতা
জামালপুরে জুলাই-আগস্টের নাশকতা মামলার আসামি ও ভূমিদস্যু জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসীর হামলায় স্থানীয় সাংবাদিক মো. মাসফি আকন্দ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ১৫ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার শরীফপুর বাজারে এই হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে সাংবাদিক মাসফি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার ২ নং শরীফপুর ইউনিয়নের বেপারী পাড়া গ্রামের মৃত শীত মাহমুদ এর ছেলে আব্দুল আজিজ মৃত্যুর পর তাঁর সহোদর বোন মোছাম্মদ রাশেদা বেগমকে রাতের অন্ধকারে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়ে দুটি বাড়ি দখল করে নেন জাহাঙ্গীর আলম। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী রাশেদা বেগম ও তাঁর ভাগিনা আব্দুর রশিদ উজ্জ্বল বাদী হয়ে জামালপুর কোর্টে একটি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে ডিবি (উই) কার্যালয়ে তদন্তাধীন রয়েছে। এই মামলায় সাংবাদিক মাসফি আকন্দ সাক্ষী হওয়ায় তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত ছিল ভূমিদস্যু জাহাঙ্গীর। গত ১৫ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে শরীফপুর বাজারের মতিন মেডিকেলে এলাকার একটি স্থানীয় বিষয় মীমাংসার জন্য আলোচনার আয়োজন করা হয়। মতিন মেডিকেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জামালপুর জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক ডা. জুনায়েদ আহমেদের মধ্যস্থতায় আয়োজিত উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মুসলিম উদ্দিন, শরীফপুর দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রশিদ এবং ৭১ টেলিভিশনের সাংবাদিক মামুন আনসারী সুমনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আলোচনা শেষে বিষয়টি সমাধান হওয়ার পরপরই জুলাই-আগস্টের নাশকতা মামলার আসামি জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে সাবেক সেনা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মিল্টন, তাঁর ছোট ভাই লিখন, চাচাতো ভাই মিলন ও সাদ্দাম অতর্কিতভাবে সাংবাদিক মাসফির ওপর হামলা চালায়। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ বাধা দিলে তারা সাময়িকভাবে চলে গেলেও, ক্ষণিকের মধ্যে পুনরায় রড ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে মাসফির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মিল্টনের রডের আঘাতে সাংবাদিক মাসফির মাথা ফেটে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাঁর বাবা ও ভাইকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জগতী জখম করে।
ঘটনার পরপরই সাংবাদিক মাসফি জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানকে বিষয়টি অবহিত করেন। ওসির নির্দেশে এ, এসআই ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হামলার সময় ধস্তাধস্তিতে আক্রমণকারীদেরও একজন আহত হয়। পুলিশের সহযোগিতায় আহতদের হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে প্রতিপক্ষের লোকজন অবস্থান করায় পুনরায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় পুলিশি নিরাপত্তায় তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ১৬ মে ভোর সকালে পুলিশ সাংবাদিক মাসফির বাবাকে থানায় নিয়ে যায়। আহত সাংবাদিক মাসফি আকন্দ বলেন, “এই জমির মামলা ও সাক্ষী দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর ও তার বাহিনী এর আগেও আমার ওপর একাধিকবার হামলা করেছে। নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আমি গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলাম। আজ আবারও আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলো। আমি প্রশাসনের কাছে আমার নিরপরাধ বাবার অবিলম্ব মুক্তি এবং আমার ও আমার পরিবারের সকল সদস্যের জীবনের নিরাপত্তা দাবি করছি।” এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাংবাদিকের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
জামালপুরে নাশকতা মামলার আসামি জাহাঙ্গীরের হামলায় সাংবাদিক মাসফি ও তাঁর পরিবার আহত : বাবা আটক
