দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৯ জন। এর মধ্যে ১০৮ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫৩ জনে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, সর্বশেষ মারা যাওয়া দুই শিশু সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। তাদের একজন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পাঁচ মাস বয়সী শিশু আবু সাইফ এবং অন্যজন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার আট মাস বয়সী রাফা আক্তার। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত ৭ হাজার ৫২৪ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৫৬ হাজার ৫৭২ জনের মধ্যে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু। হাসপাতালে চাপও বাড়ছে দ্রুত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৪১ হাজার ২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৬ হাজার ৬৪৫ জন। সিলেট বিভাগে পরিস্থিতি তুলনামূলক বেশি উদ্বেগজনক। বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৩৬ জন সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫৪ জন। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মে পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হাম ও রুবেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৯ জন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৭৫ জন। এছাড়া সিলেট জেলায় ৪২ জন, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে ১৬ জন করে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, অভিভাবকদের অসচেতনতা এবং দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার কারণেই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।
হামের ভয়াবহতা বাড়ছেই, দুই মাসে প্রাণহানি ছাড়াল ৪৫০
