তিন দেশ থেকে আনা হবে ১ লাখ ১৫ হাজার টন সার

কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে কানাডা ও রাশিয়া থেকে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) এবং সৌদি আরব থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করা হবে। এসব সার আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ৫৬৪ কোটি ২৪ লাখ ৮২ হাজার ৮৮৭ টাকা। গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে সার আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) কানাডার কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন মিউরেট অব পটাশ সার আমদানি করবে। এতে ব্যয় হবে ১৮৭ কোটি ২২ লাখ ৮৯ হাজার ৫৪০ টাকা। কৃষি ভর্তুকির বাজেট থেকে এ অর্থ পরিশোধ করা হবে। চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদর বিবেচনায় প্রতি মেট্রিক টন এমওপি সারের দাম পড়েছে ৩৭৭ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার। ৪০ হাজার মেট্রিক টন সারের মোট মূল্য ১ কোটি ৫১ লাখ ৫ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কানাডা থেকে ১০টি লটে মোট ৪ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানি সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যমান চুক্তির আওতায় আরও তিনটি ঐচ্ছিক লটের সার অবশিষ্ট থাকায় চুক্তির সংশোধনী স্বাক্ষর করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ) থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চতুর্থ লটে এ সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬৩ কোটি ৮২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৭ টাকা। এ অর্থও কৃষি ভর্তুকির বাজেট থেকে দেওয়া হবে। চুক্তির মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতি মেট্রিক টন এমওপি সারের দাম ৩৭৭ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার। ৩৫ হাজার মেট্রিক টন সারের মোট মূল্য ১ কোটি ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৫০ মার্কিন ডলার। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৭ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৫ লাখ ৯৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশটি থেকে ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানি করা হয়েছে। এ ছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানি করবে। এতে ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সরকারি অর্থায়নে এ সার আমদানি করা হবে। সৌদি আরবের সাবিক থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় ২০০৭ সাল থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করে আসছে বাংলাদেশ। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন এবং জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও ৫ লাখ মেট্রিক টনসহ মোট ৮ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি হয়েছে। চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে দ্বিতীয় লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২১৩ কোটি ১৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রস্তাবটি প্রত্যাশামূলক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল।