পশু জবাইয়ের নির্ধারিত স্থানে সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দুর্ভোগ

শেরপুর সংবাদদাতা
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা সদর বাজারে মাংস বিক্রির জন্য নির্ধারিত স্থান থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মাংস ব্যবসায়ীদের। বাজার থেকে পশু জবাইখানা দূরে হওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই ব্যবসায়ীরা মাংস বিক্রির স্থানেই পশু জবাই করছেন। প্রতিদিন গরু, মহিষসহ বিভিন্ন পশু জবাই করছে ব্যবসায়ীরা। কিন্তু নির্ধারিত জবাইখানাটি অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রয়েছে, মাংস বাজার থেকে অনেক দূরে এবং যাতায়াতের ব্যবস্থা না থাকায় সেখানে পশু জবাই করে মাংস আনা কঠিন হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ীদের জন্য। স্থানীয়দের অভিযোগ, পশুর রক্ত অপসারণ করা হলেও ড্রেন সরু হওয়ায় পরিষ্কার করার পরও মাঝেমধ্যেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বাজারে। সৃষ্টি হচ্ছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়কেই পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে। পাশাপাশি বৃষ্টির সময় পানি জমে যাওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে মাংস নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি ক্রেতাদের মধ্যেও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মাংস বাজারে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্রুত বাজারটির কাক্সিক্ষত উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি তাদের। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, গরু হাটের পুরোনো পশু জবাইখানাটিতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকার পরও সেটাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আর নতুন পশু জবাইখানাটি মাংস বাজার থেকে অনেক দূরে এবং পশু জবাইয়ের ঘরটি একেবারে ছোট করে তৈরি করেছে। এ ছাড়াও সেখানে যাতায়াতের জন্য উপযুক্ত রাস্তাসহ পশু জবাইয়ের পর্যাপ্ত পরিবেশও নেই। তাদের দাবি পশু জবাইখানাটি যদি মাংস বাজারে অথবা গরু হাটের আগের জায়গাতে করা হয়, তাহলে ক্রেতাদের মাংস নিয়ে সন্দেহ থাকবে না এবং ব্যবসায়ীদেরও পশু জবাই করে মাংস নিয়ে আসা খুবই সহজ হবে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে নিয়মিত মাংস বাজার তদারকি করা হচ্ছে। তবে মাংস বিক্রেতাদের পশু জবাইখানা, মাংস বাজারের চালা, পানির ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবেন।