মোস্তাক আহমেদ মনির
অবশেষে দুই পাশে সংযোগ সড়ক হলো জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ঘুইঞ্চার চরের কোটি টাকার ব্রীজে। নির্মাণের ২ বছরেও রাস্তা না থাকায় ব্রীজটি কোন কাজেই আসছিলো না চরাঞ্চলের মানুষদের। ফলে ব্রীজ হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে পোহাতে হতো নানা দূর্ভোগ ও ভোগান্তি। বর্তমানে ব্রীজের দুইপাশে সংযোগ সড়ক হওয়ায় খুশি এ চরাঞ্চলের মানুষ।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে “গ্রামীণ রাস্তায় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প”-এর আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দূর্গম চরাঞ্চল ঘুইঞ্চার চরে যমুনা নদীর শাখা অংশের উপর ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ২ বছর হলেও দুই পাশে কোন সংযোগ সড়ক না থাকার কারনে স্থানীয়দের কোন কাজেই আসছিলো না ব্রীজটি। ফলে চলাচলে নানা দূর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে কৃষিপণ্য সরবরাহ ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এছাড়াও বন্যা মৌসুমে গামছা পড়ে নদী সাতরে পার হতে হতো বলে জানিয়েছে স্থানীয়দের।
পরে বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপির নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিল এর তত্বাবধানে ব্রীজের দুই পাশে করা হয় ১ হাজার ৮০০ ফুট সংযোগ সড়ক। ফলে দীর্ঘদিনের চলাচলের চরম ভোগান্তি ও দূর্ভোগ থেকে রক্ষা পেল স্থানীয়রা।
স্থানীয় আজাহার আলী, মোকাদ্দেস হোসেন, জহুরা বেগম, আলি আকবর জানান, এই ব্রীজটি এতোদিন আমাদের কোন কাজেই লাগনি। ব্রীজ দিয়ে চলাচলের মতো কোন রাস্তা ছিলো না। নিচ দিয়ে ফসলের আইল দিয়ে চলাচল করতে হয়েছে। পানি বাড়লে বেশির ভাগ সময় গামছা পড়ে হেটে বা নদী সাতরে পার হতে হয়েছে। মহিলাদের নদীতে ভিজে চলাচল করতে হতো। এখন রাস্তা হওয়ার কারনে আমরা খুশি। আমাদের দূর্ভোগ লাঘব হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, বিষয়টি আমরা সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রথম জানতে পারি। পরে সরেজমিনে তদন্ত করে ওই এলাকার মানুষদের চলাচলের দূর্ভোগ দেখে বিষয়টি নিয়ে আমরা এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলে পরবর্তীতে ব্রীজের দুইপাশে রাস্তা করে দেয়া হয়। এখন মানুষ ওই ব্রীজ দিয়ে চলাচল করতে পারে।
ব্রীজ নির্মানের দুই বছরের মাথায় হলো সংযোগ সড়ক : দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি
