এবার ইসরায়েলর সমর্থনও হারালো ইনফান্তিনো

বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বেসরকারিকরণের ইচ্ছা প্রকাশ করে নিজের পদ নড়বড়ে করে তোলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। যা তার পুনরায় ফিফার সভাপতি পদে নির্বাচনের পরিকল্পনাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। ইনফান্তিনোর জন্য সর্বশেষ ধাক্কাটি আসে গত সোমবার রাতে, তার ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) প্রকল্পের সমালোচনা করায় ছাটাই করা হয়েছে ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামুরকে। সেই রেশ না কাটতেই ইসরায়েলও ইনফান্তিনোর ওপর সমর্থন প্রত্যাহার করল। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলও ফিফা প্রধানের দায়িত্বে ইনফান্তিনোকে পুনর্র্নিবাচনের সমর্থন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করেছে। ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) সভাপতি মোশে জুয়ারেস সংস্থাটির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। ইসরায়েল ১৯৯৪ সাল থেকে উয়েফার সদস্য এবং জুয়ারেস ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সদস্য। ফলে তার নেতৃত্বাধীন আইএফএর এই সিদ্ধান্ত খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়। আবার, এটি ইনফান্তিনোর জন্য বেশ বড় ধাক্কা। কারণ ফিফা সভাপতি ফিলিস্তিনের সঙ্গে ইসরায়েলের ক্রীড়া সম্পর্ক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। গত এপ্রিলে ফিফা কংগ্রেসে ভ্যাঙ্কুভারে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের দুই প্রতিনিধিদলকে নিয়ে একটি ছবি তোলার চেষ্টা করেছিলেন ইনফান্তিনো। কিন্তু ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি জিবরিল রাজুব ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি বাসিম শেখ সুলেমানের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ব্যর্থ হলেও থামেননি ইনফান্তিনো। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে মুখোমুখি করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। জুনে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ‘দ্য গার্ডিয়ান’। তাদের হাতে আসা ইসরায়েল ফুটবল সংস্থার চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ফিফা ও উয়েফার বৈশি^ক ফুটবল পরিচালনার দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে ‘অভূতপূর্ব আস্থার সংকট’ তৈরি করেছে। চিঠিতে জুয়ারেস দাবি করেছেন, দুই সংস্থার মধ্যে এই মতপার্থক্য গভীর, মৌলিক ও নীতিগত এবং এটি বিশ^ ফুটবলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আইএফএর বোর্ড সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন বলেও জানান জুয়ারেস, ‘আমাদের আগের সমর্থনের চিঠি প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আন্তরিকভাবে আশা করি, সব পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ সংলাপ শেষ পর্যন্ত বিশ^ ফুটবলের জন্য একটি অভিন্ন, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দিকনির্দেশনা ফিরিয়ে আনবে।’ এর আগে উয়েফার আরও কয়েকটি সদস্য দেশ- ইংল্যান্ড, ওয়েলস, স্কটল্যান্ড ও রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ড ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। যদিও ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ফিফাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ‘ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা ভাবাও হবে মারাত্মক ভুল।’ এ ছাড়া সাবেক বিশ^চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, লাতিন ফুটবল সংস্থা কনমেবল, আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন সিএএফ এবং পৃথকভাবে বেশকিছু দেশ তাকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে।