জামালপুরে প্রতারণা করে ৭ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

এম.এ.রফিক
জামালপুর সদর উপজেলার তিতপল্যা ইউনিয়নের কাষ্টসিংগা গ্রামে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এলাকার প্রায় ৪০-৫০ জন মহিলার কাছ থেকে ৫-১০ হাজার করে নিয়ে পালিয়ে গেছে একই গ্রামের শুক্কুর আলীর স্ত্রী সাবিনা বেগম (২৬)। সে শুধু স্থানীয়দের কাছ থেকে টাকা নেয়নি, তার নিজ শ্বশুর বাড়ি থেকেই ৩ লক্ষ নগদ টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের গহনা ও মোবাইল ফোন নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। এ বিষয়ে সাবিনা বেগমের শ্বাশুড়ি মোছাঃ আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে গত ২৫/০৯/২০২৬ইং তারিখে নারায়নপুর তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা যায়, ৭-৮ মাস আগে কাষ্টসিংগা গ্রামের মোঃ শুক্কুর আলীর সাথে শিমুলতলী গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের মেয়ে সাবিনা বেগম (২৬) এর বিয়ে হয়। বিয়ে হওয়ার পর হতে শ্বশুর বাড়িতে সে প্রতারণা করে ৪০-৫০ জন অসহায় মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাত করে নেয়। এছাড়া শ্বশুর বাড়ি থেকেও প্রায় ৩ লক্ষাধিক টাকা সহ গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা বলেন, সাবিনার বিয়ে হওয়ার পর এলাকায় সে সমাজসেবা অফিসের কর্মচারী বলে পরিচয় দেয়। যার কারনে সমাজসেবার বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে অসহায় মহিলাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে তিতপল্যা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ শফিকুল ইসলাম সোহাগ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এ.এস.আই আব্দুল মালেক বলেন, প্রতারণার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করছি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শাহাদৎ হোসেন বলেন, প্রতারক সাবিনা বেগমের সাথে সমাজসেবা অফিসের কোন সম্পৃক্ততা নেই। একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ সাধারণ মানুষকে সমাজসেবা অফিসের নাম বলে প্রতারণা করে আসছে। আমরা এর আগেও সবাইকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছি। প্রতারণার বিষয়ে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। ভাতাভোগী সহ বিভিন্ন সমাজসেবার কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়। এখানে অর্থ লেনদেনের কোন সুযোগ নেই। এলাকাবাসী প্রতারক সাবিনা বেগমের আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন।