মেলান্দহ সংবাদদাতা
জামালপুর জেলার মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী বইসার বিলে জলাবদ্ধতার কারণে অন্তত: ৭/৮ সহস্রাধিক বিঘা জমিতে ফসল করা যাচ্ছে না। এই বিলের জলাবদ্ধতার কারণে মেলান্দহের উত্তর বালুরচর মালিবাড়ি ডোবার নিম্নাঞ্চলের আরো ২/৩ সহস্রাধিক বিঘা জমির ফসলও বিনষ্ট হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, একদিকে মেলান্দহের আমডাঙ্গা, কাজাইকাটা, উত্তর বালুরচর, দক্ষিণ বালুরচর, মধ্যবালুরচর, পশ্চিম বালুরচর, পূর্বশ্যামপুর, বেপারিপাড়া, মালিপাড়াসহ শ্যামপুরের একাংশ, অপরদিকে ইসলামপুরের ডিগ্রিরচর উত্তরপাড়া, মধ্যপাড়া, পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া, মোল্লাপাড়া, সকাল বাজারসহ ৭ পাড়ার আশপাশের কমপক্ষে ২/৩ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। কৃষক লুৎফর রহমান তরুণ (৫০) এবং আবুল কালাম আজাদ (৫৭) সহ অন্যানা জানিয়েছেন, বইসার বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০০৪-০৫ অর্থ বছরে সুলতান মাহমুদ বাবু এমপি ডিগ্রিরচর দক্ষিণপাড়ায় একটি স্লুইচগেট নির্মাণ করেন। এতে বইসার বিল এবং মালিবাড়ি ডোবার পানি ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে যাওয়ায় সারাবছর জুড়ে ফসল ফলানো যেত। স্লুইচ গেটের সামনে ২শ’/৩শ’ ফুট জায়গা বন্ধ করে ফাইজুল ও দুলাল মিয়াদের বসতি গড়ে তোলায় ৩/৪ বছর যাবৎ এই বিলের পানি প্রবাহের গতিপথ বন্ধ হয়েছে। এতে কৃষকের চরম দুর্গতি দেখা দিয়েছে। কৃষক জিয়াউল হক (৪৭) জানিয়েছেন, স্লুইচ গেটের সামনে পানি প্রবাহ বন্ধ করায় নিম্নাঞ্চলে কোন বছর এক ফসল করা যায়। আবার কোন বছর এক ফসলও করা যাচ্ছে না। পানি নিষ্কাশন না হলে চলতি বছরেও ফসল হবে না। ডিগ্রিরচর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড’র (রেজি নং-জামালপুর-৩৪) কোষাধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম (৪৮) জানান-আমরা লোকাল গরিব দুর্বল মানুষ। আমাদের বাধা উপেক্ষা করেই পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। মালির ডোবা সম্পূর্ণ মেলান্দহ উপজেলার মধ্যে। বইসার বিলের অর্ধেক মেলান্দহ এবং অর্ধেক ইসলামপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায়, দুই উপজেলার প্রশাসন-জনপ্রতিনিধিরা জেনেও ঠেলাধাক্কা করছেন। স্লুইচ গেট বন্ধ করে বসতি গড়ার বিষয়ে খালের দখলদার ফাইজুল ও দুলাল গংরা জানিয়েছেন, মাত্র ২শ’ ফুট জায়গায় একটি কালভার্ড কিংবা চুঙ্গি পুলের জন্য বহুবার প্রশাসনের কাছে ধর্না দিয়েছি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এই টুকুর সমাধান হয় না। প্রতিকার না পেয়ে চলাচলের জন্য মাটি কেটেছি। এ ব্যাপারে মেলান্দহ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান-বিষয়টি নিয়ে উপর মহলে কথা বলেছি। ইসলামপুর কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সালের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান-কৃষকদের দুর্ভোগ লাগব এবং দ্রুত সমাধানের জন্য সরেজমিন পরিদর্শন শেষে উপর মহলে রিপোর্ট করেছি। এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি সুলতান মাহমুদ বাবু জানিয়েছেন, কৃষক এবং জনস্বার্থেই স্লুইচ গেটটা করে ছিলাম। এটাকে সচল রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বইসার বিলের জলাবদ্ধতায় কয়েক হাজার বিঘা জমিতে ফসল হয় না
