শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, উন্নত দেশগুলো শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করছে না, নিজেরাই প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও তৈরি করছে। বাংলাদেশকেও সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে। এ জন্য শিক্ষায় আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করে তুলতে হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ প্রাঙ্গণে ‘বিএনএমপিসি ন্যাশনাল সায়েন্স কার্নিভাল-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছেন। ২০২৮ সাল থেকে পরিমার্জিত কারিকুলামের আলোকে নতুন পাঠ্যপুস্তক প্রবর্তন করা হবে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ‘‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’’, ‘‘আমার কারিগরি শিক্ষা’’, ‘‘খেলাধুলা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি’’ শীর্ষক চারটি নতুন বই শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রকল্পের প্রশংসা করে মন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও নদীগুলোকে জীবন্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা দেখে তিনি খুশি হয়েছেন। উন্নত বিশ্বের মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল করতে না পারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সামনে ভালো করার সুযোগ রয়েছে। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া মানেই জীবন থেকে ছিটকে পড়া নয়। বরং ভবিষ্যতে আরও উদ্যম নিয়ে ভালো ফল করার চেষ্টা করতে হবে। এর আগে শিক্ষামন্ত্রী মেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১২টি স্টলে প্রদর্শিত প্রকল্প ঘুরে দেখেন। পরে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। অনুষ্ঠানে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তাজুল ইসলামসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশকে প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
