রাজধানীর উত্তরায় বাবার সামনে থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত লামিন ইসলামকে একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তাহমিনা আক্তার রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেফতরের পর শনিবার লামিনকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানার এসআই ফরিদুজ্জামান। ওইদিন আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির দিন রাখেন গতকাল সোমবার। এদিন শুনানিকালে লামিনকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল পরীক্ষা শেষে দুপুরে মেয়েকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন বাবা। একপর্যায়ে লামিন ইসলামসহ সাত-আটজন দুর্বৃত্ত উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টর থেকে বাবার কাছ থেকে তার মেয়েকে ছিনিয়ে একটি প্রাইভেট কারে তুলে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা উত্তরা পূর্ব থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। ভুক্তভোগীর বাবা মামলায় উল্লেখ করেন, পরীক্ষা শেষে মেয়েকে নিয়ে বাসার উদ্দেশে রওনা হন। উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের ৫ নম্বর সড়কে পৌঁছালে লামিন ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৬ থেকে ৭ জন জোর করে তার মেয়েকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। আসামি পক্ষের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম জামিন আবেদন করে আদালতকে বলেন, এ মামলাটা চাঞ্চল্যকর, মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, সেখানে সমালোচনা ঝড় উঠেছে। এটা একটি প্রেমের ঘটনা। মেয়েটির সঙ্গে আসামির দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এর আগেও এই মেয়ে তার সঙ্গে চলে যায়। এখানে কোনও ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। তাই এখানে রিমান্ড নেওয়ার কোনও কারণ নেই। বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ্ মো. শরিফুল ইসলাম আদালতে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দাখিল করে বলেন, এটা একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা, স্কুলের পরীক্ষা শেষে বাবার সঙ্গে বাসায় যাওয়ার সময় আসামি তার দলবল নিয়ে মেয়েকে রাস্তা থেকে অপহরণ করে। মেয়েকে এর আগেও বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতো। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তথ্য উদঘাটনের জন্য সর্বোচ্চ রিমান্ড আবেদন করেন। এপর্যায়ে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনতে চান। তাহমিনা আক্তার বলেন, ছেলেটা মেয়েটাকে অনেক আগে থেকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বাবার হাত থেকে মেয়েটাকে কীভাবে ছিনিয়ে নিলো? দশম শ্রেণির মেয়ে বাবার হাতে নিরাপদ না থাকলে কার কাছে নিরাপদ থাকবে। ফিল্মি স্টাইলে মেয়েটাকে অপহরণ করে। পরবর্তীকালে এমন ঘটনা যেন না ঘটে, অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করছে। তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদুজ্জামান বলেন, মেয়েটার বয়স ১২ বছর। ঢাকার মতো এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকার লোকজন ভীতিকর অবস্থায় আছে। এক আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অপর আসামিরা গ্রেপ্তার হলে এলকাবাসী শান্তি পাবে। শুনানি নিয়ে আদালত আসামির একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে গত ১ মে গাজীপুরের পুবাইল থানা এলাকা থেকে লামিন ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই সময় অপহৃত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করা হয়। ভুক্তভোগী উত্তরা গার্লস স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বাবার সামনে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ: অভিযুক্ত লামিন একদিনের রিমান্ডে
