হাওয়ের বন্যাকবলিত কৃষকদের জন্য সাড়ে সাত হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ। গতকাল সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সম্প্রতি বন্যায় হাওর অঞ্চলে কৃষকদের ফসল নষ্ট হওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, সরকার এ বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে হাওর পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দুর্দশা লাঘবে সরকার নগদ অর্থ সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা পুরোপুরি পুষিয়ে দেওয়া হয়তো সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে কৃষকরা যে মহাবিপদ ও মানসিক চাপের মধ্যে আছেন, তা কিছুটা লাঘব করতে আমরা প্রাথমিকভাবে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেব। এই সহায়তা কৃষকদের পরবর্তী ফসল ঘরে না ওঠা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। পরবর্তীতে প্রয়োজন অনুযায়ী এই সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছেন। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে মন্ত্রী নিজেও হাওর পরিদর্শনে যাবেন। এদিকে, খাদ্য হিসেবে আলুর ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো যায় সেদিকে নজর রাখতে জেলা প্রশাসকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। জেলা প্রশাসকদের এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার জন্য কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়া হয়েছে। যে কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের কোন ফসল কতটুকু ফলাতে হবে তার সবকিছুই জানতে পারবেন। বন্যায় দেশে প্লাবিত নিম্নাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রধানমন্ত্রী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তহবিল থেকে অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথাও জানান কৃষিমন্ত্রী। সম্মেলনে একজন জেলা প্রশাসক আলুর অত্যধিক ফলন এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। এর স্থায়ী সমাধান হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বা ‘ফার্মার কার্ড’ ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেন বলে জানান তিনি। কৃষিমন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, কৃষক কার্ড ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু হলে সারা দেশে নির্দিষ্ট মৌসুমে কোন জাতের আলু কতটুকু আবাদ করা হবে, তার একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা থাকবে। একজন কৃষক জানতে পারবেন তার এলাকায় কতটুকু আলু আবাদের কোটা রয়েছে। এই কোটা অনুযায়ী ফসল ফলালে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হবে না এবং কৃষক তার ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন। এতে ক্রেতা, ভোক্তা এবং উৎপাদনকারী সবাই একটি ‘উইন-উইন’(লাভজনক) অবস্থানে থাকতে পারবেন। এছাড়া আলুর বহুমুখী ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশে চিপস ও ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির উপযোগী বিশেষ প্রজাতির আলুর উৎপাদন সফলভাবে শুরু হয়েছে। একসময় ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির আলু বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। কিন্তু এবার দেশে এর ভালো ফলন হয়েছে এবং আগামীতে এই বিশেষ জাতের আলু বিশ্বব্যাপী রপ্তানি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে মন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন। দেশে পশুর কোনো ঘাটতি হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু আসা ঠেকাতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আগে কিছু পশুর হাট বসত, যেখানে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হতো। কিন্তু সেখানে প্রকৃত ক্রেতা নেই। তাই অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আমরা সেসব হাট বন্ধ করে দিয়েছি। বিজিবি এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে, আগামী দিনে সীমান্ত দিয়ে নতুন করে কোনো গরু আসার সম্ভাবনা নেই। দেশে পশুর উদ্বৃত্ত থাকার বিষয়ে মন্ত্রী নিজে খামারি হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অনেক খামারি সঠিক দাম না পেলে ছোট গরু এ বছর বিক্রি না করে আগামী বছরের জন্য লালন-পালন করেন। তাই গাণিতিক হিসাবে উদ্বৃত্ত মনে হলেও এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, বর্তমানে দেশের শিক্ষিত তরুণ প্রজন্ম আধুনিক খামার ও কৃষিকাজে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে দেশে কোরবানির পশুর কোনো সংকট তৈরি হওয়ার বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
হাওরের কৃষকদের সাড়ে ৭ হাজার টাকা সহায়তা দেবে সরকার
