ভারতের কাছে পাত্তাই পেলোনা লংকানরা

গলে প্রথম টেস্টের শেষ দিনে শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধ ভেঙে দিয়ে ১৬৫ রানের জয় তুলে নিয়েছে ভারত। জয়ের জন্য ৩৭২ রানের লক্ষ্য পাওয়া শ্রীলঙ্কা চতুর্থ দিন শেষে ৩৪ ওভারে ৮৪ রান তুলেছিল ৪ উইকেট হারিয়ে। পঞ্চম দিনে তাদের প্রয়োজন ছিল আরও ২৮৮ রান, হাতে ছিল ছয় উইকেট। কিন্তু ভারতের স্পিনার মানব সুতারের দারুণ বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৭৭.৪ ওভারে ২০৬ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। পঞ্চম দিনের শুরুতে শ্রীলঙ্কার আশা ছিল অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও সোনাল দিনুশার ওপর। আগের দিন শেষ বিকেলে চতুর্থ উইকেটের পতনের পর এই জুটি দলকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল। পঞ্চম দিনেও তারা সেই প্রতিরোধ ধরে রাখেন। পঞ্চম উইকেটে দুজন মিলে ১১২ বল খেলে ৫০ রান যোগ করেন। ধনঞ্জয়া নিজের ফিফটির দিকে এগোচ্ছিলেন, আর সোনালও দ্রুত রান তুলছিলেন। শ্রীলঙ্কা ৪২.৩ ওভারে ১০০ রান পূর্ণ করে। এরপর ধনঞ্জয়া ১২৫ বলে ৫০ রান পূর্ণ করেন। কিছুক্ষণ পর সোনালও ৭৭ বলে ফিফটি তুলে নেন। দুজনের ব্যাটে শ্রীলঙ্কার স্কোর ১৩৮/৪-এ পৌঁছে যায়। ওই সময় ম্যাচে ভারতের জয় কিছুটা দূরে সরে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছিল। তবে লাঞ্চের আগে ভারত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পায়। ধনঞ্জয়া ও সোনালের জুটি ভাঙার পর শ্রীলঙ্কার ইনিংসে আর বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। ৫৫ রানে থাকা ধনঞ্জয়াকে ফিরিয়ে দেন রবীন্দ্র জাদেজা। ১৫১ বল খেলে ৫৯ রান করেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার। ধনঞ্জয়া আউট হওয়ার পরও সোনাল দিনুশা লড়াই চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ১২৮ বলে ৮৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। আটটি চার ও একটি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংস ছিল শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। তবে সোনালকে ফেরান সুতার। এখানেই কার্যত শ্রীলঙ্কার শেষ প্রতিরোধও ভেঙে যায়। ৭৫.১ ওভারে সোনাল আউট হওয়ার পর মাত্র ৫ বলের মধ্যে আরও দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। প্রভাত জয়াসুরিয়া কোনো রান না করেই সুতারের বলে বোল্ড হন। এরপর লাহিরু কুমারাকেও ফিরিয়ে দেন ভারতের বাঁহাতি এই স্পিনার। শেষ উইকেটটি পড়ার আগেও শ্রীলঙ্কা ১৯৯ রান পর্যন্ত পৌঁছেছিল। কিন্তু ৭৭.৪ ওভারে কেশারা নুয়ান্থাকে আউট করে ভারতের জয় নিশ্চিত করেন সুতার। ২০ রানে আউট হন নুয়ান্থা। অপর প্রান্তে অপরাজিত ছিলেন আসিথা ফার্নান্দো। পঞ্চম দিনে শ্রীলঙ্কার শেষ ছয় উইকেটের চারটিই নেন সুথার। সব মিলিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩.৪ ওভার বোলিং করে ৫৫ রান দিয়ে ছয় উইকেট শিকার করেন তিনি। তার বোলিংয়ের ইকোনমি ছিল মাত্র ২.৩২। শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসে আর কোনো ভারতীয় বোলার সুতারের মতো প্রভাব ফেলতে পারেননি। প্রসিধ কৃষ্ণা দুটি এবং মোহাম্মদ সিরাজ ও রবীন্দ্র জাদেজা একটি করে উইকেট নেন। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ভারতের দেবদূত পাড়িক্কাল। প্রথম ইনিংসে তার ১৬৭ রান ভারতের বড় সংগ্রহের ভিত্তি তৈরি করে। তবে ম্যাচের ফল নির্ধারণে পঞ্চম দিনের নায়ক নিঃসন্দেহে মানভ সুথার। তার ছয় উইকেটের স্পেলেই শ্রীলঙ্কার শেষ দিনের প্রতিরোধ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।