মাদারগঞ্জে পিকআপের চাপায় দুই শিক্ষার্থী আহত : সড়ক অবরোধ

রফিকুল বারী
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ভেলামারী এলাকায় দ্রুতগতির একটি পিকআপের চাপায় প্রথম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মাদারগঞ্জ-জামালপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এতে করে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ২ নম্বর কড়ইচড়া ইউনিয়নের ভেলামারী গ্রামের বাসিন্দা মো. শাওন (৭) ও মো. জিহাদ (৭) বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে রাস্তা পারাপারের সময় একটি দ্রুতগতির পিকআপ তাদের চাপা দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গাড়িটি আটকের চেষ্টা করলেও সেটি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। আহতদের মধ্যে মো. শাওন (পিতা: মৃত জলিল, প্রথম শ্রেণি, রোল নং-৩০) গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর শিক্ষার্থী মো. জিহাদ (পিতা: রইছ উদ্দিন, প্রথম শ্রেণি, রোল নং-১২) জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তারা উভয়েই ভেলামারী গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, দায়ী চালকের গ্রেফতার এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার দাবিতে মাদারগঞ্জ-জামালপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে উভয় পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারির যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। স্থানীয়রা জানান, গুরুতর আহত শাওনের পারিবারিক অবস্থা অত্যন্ত অসচ্ছল। তার বাবা মৃত জলিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা নিয়ে স্বজনরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তারা আহত শিশুটির চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, ভেলামারী এলাকায় সড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়ী পিকআপ চালককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি এ ঘটনা, কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানিয়েছেন মাদারগঞ্জ মডেল থানা ওসি স্নেহাশিষ রায়।