রাজধানীর মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচ থেকে যে বোমাটি উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি বেশ শক্তিশালী ছিল বলে জানাচ্ছেন পুলিশের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, কেউ কৌতুহলবশত ছাতাটি খোলার জন্য বোতাম টিপলেই বড় ধরনের বিপদ হতে পারত। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের একজন কর্মকর্তা গত শুক্রবার রাতে বলেন, “ওটা ছিল একটা পাইপ বোমা (আইইডি বা ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস)। এর ভেতরে দেড় কেজির মতো সালফার ছিল, আর ছিল প্রচুর তারকাঁটা ও ধারালো লোহার টুকরো। ব্যাটারি ও সার্কিট জোড়া দিয়ে ডিভাইসটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যে কেউ ধাতা খোলার জন্য বোতামটি চাপলে এটা বিস্ফোরিত হত। তখন লোহা লক্করের টুকরোগুলো স্প্লিন্টার হয়ে আশপাশের লোকজনকে ক্ষতবিক্ষত করত।” সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৬টা থেকে সাড়ে ৬টার মধ্যে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা একটি পরিত্যক্ত ছাতা দেখতে পান। সন্দেহবশত ছাতাটি পরীক্ষা করে এর ভেতরে আইইডি সদৃশ বস্তু দেখতে পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাটি কর্ডন করে ডিএমপির বম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেন। ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তাদের বম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ‘আইইডি সদৃশ বস্তুটি’ সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।আলাদা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানায়, মতিঝিল স্টেশনের নিচতলায় ডিজেল জেনারেটর রুমের পাশে ‘দুটি সন্দেহজনক বস্তু’ পাওয়া যায়। একটি ছিল সেই ছাতা, পাশেই একটি বালতি পড়ে ছিল। ছাতার ভেতরে আলো জ্বলতে থাকায় বস্তুটি সন্দেহজনক মনে হলে মেট্রোরেলের দায়িত্বরত আনসার সদস্য বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্টেশন কন্ট্রোলার এবং এমআরটি পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে মতিঝিল থানা পুলিশ, এমআরটি পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেন। পরে বম ডিসপোজাল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বোমা শনাক্ত করে এবং নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সফলভাবে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে।
মেট্রো স্টেশনের নিচে ছাতার মধ্যে ছিল ‘পাইপ বোমা’, বলছে পুলিশ
