রৌমারী হাট-বাজারে আইনশৃঙ্খলা সভায় অতিরিক্ত টোল আদায়ের অনুমতি দিলেন ইউএনও

রৌমারী সংবাদদাতা
আইনশৃঙ্খলা সভায় রৌমারী উপজেলা সদর হাট-বাজারে প্রতি গরু, মহিষ, ঘোড়া, ছাগল ও ভেড়ার অতিরিক্ত টোল আদায়ের অনুমতি দিলেন ইউএনও। গত মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুর সাড়ে ১২ টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন। এতে সীমান্ত সংক্রান্ত, আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন হাট বাজারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অনিয়ম, হাট বাজারে অবৈধ দোকানপাট স্থাপনা, ড্রেজার মেশিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন সার্বিক বিষয় নিয়ে এ সভায় ব্যাপক আলোচনা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ৬ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সরকার, আব্দুর রাজ্জাক, এসএম রেজাউল করিম, নজরুল ইসলাম একেএম সাইদুর রহমান দুলাল ও সরবেশ আলী, অফিসার ইনচার্জ কাওসার আলী, বিজিবি রৌমারী সদর কোম্পানী কমান্ডার, এমপির প্রতিনিধি উপজেলা জামায়াতের আমির হায়দার আলী, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান রঞ্জুসহ উপজেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সাংবাদিক প্রমুখ।
আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সাংবাদিকদের বক্তব্যে উঠে আসা সীমান্ত সংক্রান্ত, আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি, বিভিন্ন হাট বাজারে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অনিয়ম, হাট বাজারে অবৈধ দোকানপাট স্থাপনা, ড্রেজার মেশিনে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন সার্বিক বিষয় নিয়ে এ সভায় ব্যাপক আলোচনা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন সভায় অবহিত করে বলেন, ১৪৩২ সালের টোল আদায়ের তালিকা নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি গরু, মহিষ, ঘোড়ার টোল ৫০০ টাকা এবং প্রতি ছাগল ও ভেড়া ২৫০ টাকা আদায়ের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকদের তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের পুত্র রৌমারী হাট-বাজার ইজারাদার শাকিল আহমেদ সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে প্রতি গরু, মহিষ ও ঘোড়ার ক্রেতা-বিক্রেতার নিকট থেকে ৮০০ শত টাকা এবং প্রতি ছাগল ও ভেড়ার ৩০০ টাকা টোল আদায় করছেন। পরে সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে নিজের মনগড়াভাবে প্রতি গরু, মহিষ ও ঘোড়ার ৭০০ টাকা ও ছাগল ভেড়ার ৩০০ টাকা হিসাবে টোল আদায়ের অনুমতি দেন। ইউএনওর এহেন একক সিদ্ধান্ত নেয়ায় এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
অপরদিকে খেওয়ারচর হাট-বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও চেয়ারম্যানের ভগ্নিপতি হায়দার আলীর নেতৃত্বে হাটের পেরিফেরি জায়গায় মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অবৈধভাবে দোকান নির্মান করে। অভিযোগ হলে, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) রাফিউর রহমান ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন এবং অবৈধ স্থাপনা নিজ দ্বায়িত্বে সরিয়ে নেয়ার জন্য ১ দিনের সময় দিয়ে নোটিশ প্রদান করেন। প্রায় ১ মাস পরে, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপন হলেও রহস্যজনক কারনে পাশ কাটিয়ে যায়, সহকারি কমিশনার (ভুমি) রাফিউর রহমান ও সভার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন।