তিন দিন ধরে চলা সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার বেশ কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প। গত শনিবার মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে এই শুল্ক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় গত শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। কানাডার যেসব পণ্য এই শুল্কের আওতায় পড়েছে, সেগুলো হলো কাঠের তৈরি আইস হকিস্টিক, দুগ্ধজাত পণ্য, আসবাবপত্র, মাছ ধরার ছিপ, গাছপালা-শাকসবজির বীজ, কাপড়-পরচুলাসহ আরও বিভিন্ন পণ্য। যুক্তরাষ্ট্রের কানাডার এসব পণ্যের সম্মিলিত মূল্য ২ হাজার কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বাণিজ্যিক ভলিউম বেশ বড়। মার্কিন কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালে কানাডা থেকে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেই তুলনায় ২ হাজার ডলারের পণ্যে শুল্ক তেমন কোনো বড় ঘটনা নয়, শতকরা হিসেবে কানাডা থেকে আমদানিকৃত ৫ শতাংশ পণ্যের ওপর এই শুল্ক চাপিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এর তাৎপর্য বেশ গভীর। কারণ ৩ দিনের সংলাপ ব্যর্থ হওয়া এবং গত শনিবার মধ্যরাত থেকে শুল্ক কার্যকর হওয়ায় একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো এবং কানাডার মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নবায়নের যে প্রক্রিয়া চলছিল, তা-ও অনির্দিষ্টকালের জন্য পিছিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, “আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সংলাপ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আমাদের আলোচকদের অটোয়া ফিরে আসতে বলেছি। আমাদের আলোচক টিম বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল এবং আলোচনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কানাডার জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছে।” প্রসঙ্গত, কানাডার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি হলেন একমাত্র ব্যক্তি, যিনি নিজের পেশাজীবনে কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র— উভয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চাকরি করেছেন। গত বছর প্রধানমন্ত্রীর পদে প্রার্থিতার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে রুখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। নিজ দেশের ভোটারদের কাছেও তিনি বেশ জনপ্রিয়; সাম্প্রতিক একাধিক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ কানাডীয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়ার পক্ষপাতী নন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউস সংলাপের ব্যর্থতার দায় পুরোপুরি কানাডার ওপর চাপিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, “সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার কারণ হলো কানাডা বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অপারগতা জানিয়েছে। অথচ, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির শর্তগুলো উভয়পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতেই গৃহীত হয়েছিল।” “যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে জি৭ জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি। বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর না করায় কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদার হওয়ার সুযোগ হারাল”, ব্রিফিংয়ে বলেছেন জেমিসন গ্রিয়ার। সূত্র : রয়টার্স
সংলাপ ব্যর্থ : কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেন ট্রাম্প
