আলোচিত কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। গতকাল বুধবার দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েকটি ব্যাংকের কর্মকর্তারা চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিএফআইইউর পাঠানো চিঠিতে সালমান মুক্তাদিরের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হিসাব খোলার ফরম, গ্রাহকের পরিচিতি-সংক্রান্ত নথি (কেওয়াইসি), হিসাবের লেনদেনের বিবরণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব তথ্য বিএফআইইউতে পাঠাতে বলা হয়েছে। তবে কী কারণে সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিএফআইইউর চিঠিতে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাব তলবের খবর এমন সময়ে এলো, যখন রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে তার ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে। গত শনিবার রাতে ওই স্টুডিওতে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে স্টুডিওটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিউগিনি প্রপার্টিজের কার্যালয় ও আশপাশের কয়েকটি স্থাপনাতেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় অনধিকার প্রবেশ, ভাঙচুর, লুটপাট ও চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। হামলার পর সালমান মুক্তাদির প্রথমদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ পরে জানান, প্রাথমিক তদন্তে প্রায় ৩৫ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধটি একদিকে নিউগিনি প্রপার্টিজ এবং অন্যদিকে একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে। ওই জমিতে থাকা বিভিন্ন স্থাপনার মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওও হামলার শিকার হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথাও জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পুলিশের পক্ষ থেকেও হামলার পেছনে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের কথা বলা হয়েছে। ক্যান্টনমেন্ট থানার কর্মকর্তাদের ভাষ্য, নিউগিনি প্রপার্টিজের প্রবেশপথ ও চলাচল নিয়ে বিরোধের জেরে একদল লোক সেখানে হামলা চালায়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। হামলার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সালমান মুক্তাদির দাবি করেন, ঘটনার রাতেই তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করতে গিয়েছিলেন। তার অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে চায়নি। পরে মামলা গ্রহণ করা হয়। এ নিয়ে সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যেই ২৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সালমান মুক্তাদিরের নাম উল্লেখ করে বলেন, বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম কনটেন্ট নির্মাতাদের ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। সব মিলিয়ে হামলার ঘটনা, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং পরবর্তী বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়ার বিষয়টি সামনে এলো। বিএফআইইউর চিঠির পর এখন তার নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক তথ্য পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সালমান মুক্তাদিরের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ
