সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

সেবা প্রদান জনগণের প্রতি করুণা নয় বরং জনগণের সেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই আমাদের লক্ষ্য একটি দুর্নীতিমুক্ত, হয়রানিমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও নাগরিকবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা করা, যা দেশের টেকসই উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় জমির ব্যবস্থাপনাকে হয়রানি ও দুর্নীতিমুক্ত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় রাষ্ট্রীয় সেবা পৌঁছে দিতে নিরলস কাজ করছে সরকার। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম সপ্তাহ থেকেই নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদের’ প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সময়ের পরিক্রমায় একই পরিবারে হয়তো একই জমি বিভিন্ন শরিকদের মধ্যে বারবার বণ্টন হতে থাকে। তাই সঙ্গত কারণেই একই পরিবার এবং স্বজনদের মধ্যে বন্টন প্রক্রিয়া কিংবা বিক্রি সূত্রে জমির মালিকানায়ও বারবার পরিবর্তন হয়। তিনি বলেন, আজ থেকে হয়তো ১০০ বছর আগে যে জমির মালিক ছিলেন মাত্র একজন, সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে সেই জমির মালিক হয়তো একশ‘ কিংবা তারও বেশি। এভাবে জমি ভূমির মালিকানা-শরিকানা যেমন বেড়েছে, স্বাভাবিকভাবেই জমির মালিকানা সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়াকে রেকর্ডে রাখার জন্য ভূমি কর্মকর্তাদের দায়িত্বও তেমন বেড়েছে। তারেক রহমান বলেন, মালিকানা, খাজনা, দলিল, খতিয়ান, দাগ, পর্চা, নামজারি, জমা-খারিজ, মৌজা, সি-এস, আর-এস বা ডি-এস এই শব্দগুলোর সঙ্গে জমির মালিক মাত্রই কমবেশি পরিচিত। ফলে এসব বিষয়ে নিজেদের মালিকানা হালনাগাদ রাখতে মানুষকে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে আসতে হতো। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে ভূমি ব্যবস্থাপনাও আধুনিক হয়েছে। তিনি জানান, সেবাগ্রহীতারা নিজের জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বর্তমানে ঘরে বসেই অনলাইনে সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন। এমনকি যারা অনলাইনে নিজেরা জমিজমার খাজনা প্রদান কিংবা প্রয়োজনীয় কার্যক্রমগুলো করতে সক্ষম নন, তাদের জন্য রয়েছে ভূমি সহায়তা সেবা কেন্দ্র। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের পরিচালনায় ইতোমধ্যেই দেশের ৬১টি জেলায় বর্তমানে ৮৯৩টি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র চালু রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে নির্ধারিত সেবামূল্যের বিনিময়ে নাগরিকগণ সহজেই ভূমিসেবার আবেদন করতে পারছেন এবং সরকারি ফি পরিশোধ করতে সক্ষম হচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের আরও ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নাগরিকদের হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা পৌঁছে দিতে চালু করা হয়েছে মোবাইল অ্যাপ ‘ভূমি’। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূমি-জমি ব্যবস্থাপনা যতবেশি আধুনিক এবং প্রযুক্তি নির্ভর করা যায় জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথও তত বেশি সহজ হয়। জমি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অনলাইন সুবিধা নিশ্চিত করায় জমি সংক্রান্ত দুর্ভোগ অনেকটা কমবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার কেবল ভূমি-সংক্রান্ত বিষয়েই নয়, বরং প্রতিটি ক্ষেত্রে জনবান্ধব কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে চায়। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতিকে এগিয়ে নিতেই ইশতেহারের প্রতিটি দফা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বিচারব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, এ মুহূর্তে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আদালতে বিচারাধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি। প্রচলিত আদালতের বাইরেও জমি-সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে গ্রাম আদালত কিংবা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মতো আইনানুগ ব্যবস্থায় জোর দেওয়া জরুরি। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সারা দেশে শুরু হওয়া ভূমিমেলার মাধ্যমে জনগণ ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান, রেকর্ড সংশোধন, খতিয়ান গ্রহণ ও ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির মতো সেবা সহজেই গ্রহণ করতে পারবেন।