তেল সরবরাহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে এপ্রিল মাসে এক কোটি ব্যারেল তেল রফতানি করেছে ইরাক। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির নতুন জ্বালানি মন্ত্রী বাসিম মোহাম্মেদ এই তথ্য জানান। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ দিয়ে গড়ে ৯ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করতো দেশটি। খবর রয়টার্সের। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়। দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই নৌপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর তেল এই নৌপথে বিশ্বে পৌঁছায়। ইরান যুদ্ধের জেরে কার্যত বন্ধ রয়েছে প্রণালিটি। এর ফলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং ইরাকের তেল রফতানি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে তেলের বিশ্ববাজারে। ধাপে ধাপে বাড়ছে তেলের দাম। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বাসিম বলেন, “হরমুজ প্রণালি দিয়ে রফতানি কমে গেছে এবং তা এখন তেলবাহী জাহাজের আগমনের ওপর নির্ভর করছে। কারণ, বিমা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে জাহাজগুলো এই পথ ব্যবহার করছে না। ”ওপেক ও ওপেক প্লাসের সদস্য ইরাক বর্তমানে প্রতিদিন ১৪ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে। ইরান যুদ্ধের পরই ইরাকের তেল রফতানি ভাটা পড়ে। পরে বাগদাদ এবং কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে তেল প্রবাহ পুনরায় চালুর বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার পর মার্চ মাসে কিরকুক–জেইহান তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশটির অপরিশোধিত তেল রফতানি আবার শুরু হয়। বাসিম বলেন, “তুরস্কের চেইয়ান বন্দর দিয়ে আমরা দুই লাখ ব্যারেল তেল রফতানি করেছি। আমরা এটি পাঁচ লাখ ব্যারেলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছি। ” তিনি আরও বলেন, “আঙ্কারার সঙ্গে একটি নতুন সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এটি আগের চুক্তির সম্প্রসারিত রূপ, যা শুধুমাত্র অপরিশোধিত তেল রফতানির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ”
হরমুজ দিয়ে এপ্রিলে ১ কোটি ব্যারেল তেল রফতানি করেছে ইরাক
