কঙ্গোতে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব, ৮০ জনের মৃত্যু

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেছে আফ্রিকার শীর্ষ জনস্বাস্থ্য সংস্থা আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন। সংস্থাটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সংক্রমণ এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই স্বর্ণখনি এলাকা মংগওয়ালু ও রামপোয়ারার বাসিন্দা। খবর বিবিসির। এদিকে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডা গত শুক্রবার কঙ্গো থেকে আসা একজন ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্তের কথা নিশ্চিত করেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার মারা যান এবং পরীক্ষায় তার শরীরে ইবোলা ভাইরাস ধরা পড়ে। ১৯৭৬ সালে প্রথম ইবোলা শনাক্ত হয় ডিআর কঙ্গোতে। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। এটি দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। ইবোলা সরাসরি শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে বা ক্ষতস্থানের মাধ্যমে ছড়ায়। এতে তীব্র রক্তক্ষরণ ও অঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। রোগটির প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও গলাব্যথা। পরে বমি, ডায়রিয়া, শরীরে র্যাশ এবং রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে ইবোলার নিশ্চিত কোনো চিকিৎসা নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ রোগে গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ। দেশটির রাজধানী কিনশাসার ইনস্টিটিউট ন্যাশনাল ডি রেচের্চে বায়োমেডিকেলে করা প্রাথমিক পরীক্ষায় ২০টি নমুনার মধ্যে ১৩টিতে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এখন ভাইরাসটির ধরন নির্ধারণে আরও পরীক্ষা চলছে। আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, ৮০ জন মৃতের মধ্যে চারজনের সংক্রমণ পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হয়েছে। ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়াতেও সন্দেহভাজন আরও কিছু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যদিও পরীক্ষার ফল এখনও আসেনি। স্বাস্থ্য সংস্থাটি সতর্ক করেছে, রামপোয়ারা ও বুনিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং মংগওয়ালুর খনিশিল্পের কারণে ভাইরাস আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। আফ্রিকা সিডিসির নির্বাহী পরিচালক ডা. জ্যঁ কাসেয়া বলেন, আক্রান্ত অঞ্চল ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে মানুষের চলাচল বেশি হওয়ায় আঞ্চলিক সমন্বয় জরুরি। ডিআর কঙ্গো সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করেনি। তবে শুক্রবার এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। আফ্রিকা সিডিসি জানিয়েছে, ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের প্রতিনিধিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে সীমান্ত নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। ইতুরি অঞ্চলটি ২০২১ সাল থেকে সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দমনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে এলাইড ডেমােক্রেটিক ফোর্স নামের একটি গোষ্ঠীও রয়েছে, যারা ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত ৫০ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ডিআর কঙ্গোতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রাদুর্ভাব হয়েছিল ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। তখন প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষ মারা যান। সবশেষ গত বছর মধ্যাঞ্চলের কাসাই প্রদেশের বুলাপে এলাকায় ইবোলা প্রাদুর্ভাবে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়।