২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে: সেতুমন্ত্রী

২০৩০ সালের মধ্যে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল শনিবার বিকেলে বগুড়া শহরের চেলোপাড়ায় করতোয়া নদীর ওপর নবনির্মিত ‘শাহ ফতেহ আলী সেতু’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার স্পিড ম্যানেজমেন্ট ও নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ ও সহযোগিতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বছরভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে মন্ত্রী দাবি করেন, আগের তুলনায় দেশে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই কমেছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চালকদের ফিটনেস পরীক্ষা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং শিগগিরই এর সুফল পাওয়া যাবে। সড়ক পরিবহন খাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও তদারকির ঘাটতি দূর করতে সরকার ধীরে ধীরে উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা কমাতে জনগণের সচেতনতা, দক্ষ চালক ও ফিটনেসযুক্ত যানবাহন নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য বিআরটিএ, বিআরটিসি ও হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সচেতন করা হচ্ছে। চালকদের মাদকাসক্তির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন পরিবর্তনের পাশাপাশি চালকদের ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দেশের অনেক চালকের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা এবং আইন সম্পর্কে সীমিত জ্ঞানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার আগে কঠোর প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। একুই সঙ্গে চালকের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা এবং যানবাহনের উপযোগী ফিটনেস নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও বগুড়ার স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।