৮ বছর পর মোটরসাইকেল চালক হত্যা রহস্যের জট খুলল, গ্রেপ্তার ৩

ইসলামপুর সংবাদদাতা
জামালপুরের বকশীগঞ্জের ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক আবু বক্কর নূরী হত্যা মামলার প্রায় আট বছর পর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-ইসলামপুর উপজেলার আগুনের চর এলাকার মো. জালাল মিয়া (৪২), নুর ইসলাম (৩২) ও মো. মোজাম্মেল হক (৪৮)।
সিআইডি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ২ জুলাই দুপুরে বকশীগঞ্জ উপজেলার মালিরচর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে স্ত্রী তাহমিনা বেগমের সঙ্গে খাবার খেয়ে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন আবু বকর নূরী। রাতে তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ইসলামপুর থানার গাইবান্ধা ইউনিয়নের টুংরাপাড়া এলাকার পুবেরবন্দে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আবু বক্করকে শনাক্ত করেন।
পরদিন ৩ জুলাই নিহতের স্ত্রী তাহমিনা বেগম বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। ২০২০ সালের ১৯ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার নেয় সিআইডি।
সিআইডি জানায়, তদন্তের একপর্যায়ে বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিহতের মোটরসাইকেলে থাকা তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তির ছবি পাওয়া যায়। তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে জামালপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থান, হাট-বাজার ও জনসমাগমস্থলে প্রায় পাঁচ হাজার পোস্টার লাগানো হয়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছবি প্রচার করে তথ্যদাতার জন্য এক লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
সিআইডি জামালপুরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, তথ্য ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহভাজনদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগস্ট ইসলামপুরের নাপিতের চর এলাকা থেকে জালাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন এবং অপর দুই সহযোগীর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২৭ আগস্ট গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে নুর ইসলাম এবং কলেজ রোড এলাকা থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তিন আসামিই হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন।
তদন্তে জানা যায়, ২০১৮ সালের ওই রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আবু বকরকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মোটরসাইকেলটি নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ছিনিয়ে নেওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।