২০ বছরের চাকুরিতে ২০ টাকা ঘুষ খাননি কারারক্ষী সুহেল

মোহাম্মদ আলী
জেলখানার মতো জায়গায় চাকুরি করে কোনোদিন ঘুষ খাননি! কথাটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। এই অসম্ভবটি সম্ভব করে দেখিয়ে দিচ্ছেন, বর্তমানে নেত্রকোণা জেলখানায় কর্মরত, কারারক্ষী মোঃ সোহেল রানা। তার সহকর্মী, নানা ঘটনায় জেলে যাওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও জামিনে মুক্ত কতিপয় এলাকাবাসী তার ব্যাপারে এমন তথ্য জানিয়েছেন। জানা যায়, জামালপুর জেলার পাথালিয়া গ্রামের মরহুম আমিন উদ্দিন আকন্দের ছোট ছেল মোঃ সুহেল রানা ২০০৬ সালে বাংলাদেশ কারারক্ষী পদে চাকরিতে যোগদান করেন। আজ তার চাকরির বয়স ২০ বছর। এই ২০ বছরে তিনি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে শুরু করে দেশের কয়েকটি জেলখানায় দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু, কোনোদিন কোথাও তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি প্রতিটি জেলখানায় সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ব্যাপারে জামালপুর জেলখানা মসজিদের ইমাম, হযরত মাওলানা, জাহাঙ্গীর হাসান বলেন, সুহেল ভাই জামালপুর জেলখানায় ৬ বছর চাকরি করেছেন। এতো বছরে তাকে আমি কোনোদিন কারো কাছ থেকে কোনোরকম ঘুষ নিতে দেখিনি। এমনকি কোনোদিন কারো কাছে শুনিওনি। তিনি অত্যান্ত সৎ ও ধার্মীক মানুষ। তাই, জেল কর্তৃপক্ষ তাকে সাড়ে ৪ বছর মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল। সুহেল রানার আরেক সহকর্মী, কারারক্ষী শাহিন বলেন, সুহেল ভাই আর আমি একসাথে রাজবাড়ি, ময়মনসিংহ, জামালপুর এবং বর্তমানে নেত্রকোণা জেলখানায় চাকরি করছি। কিন্তু, এতোবছরেও তাকে জেলখানার কয়েদী বা তাদের স্বজনদের কাছ থেকে ঘুষ বা অবৈধ কোনো সুযোগ সুবিধা নিতে দেখিনি। আমার দৃষ্টিতে বর্তমান যুগে তার মতো এমন সৎ ও ঈমানদার কারারক্ষী হয় না। ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের অপর একজন কারারক্ষী মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সুহেল ভাই আমাদের অহঙ্কার! তাকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। এযুগে তার মতো নির্লোভ ও নির্মোহ সরকারি চাকুরিজীবী পাওয়া দুষ্কর! পাথালিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে দুর্ভাগ্যবশতঃ আমাকেও জেলে যেতে হয়েছিল। জামালপুর জেলখানায় আমি কয়েকমাস হাজত খেটেছি। সে সময় আমাদের গ্রামের সুহেল রানা জামালপুর জেলখানার কারারক্ষী ছিল। সেসময় আমি তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। অন্য কয়েদীদের কাছ থেকে তার সম্পর্কে শুনেছি। সে খুব ভালো মানুষ। কয়েদীরা তাকে সম্মান করত। কারণ সে কোনোদিন কোনো কয়েদী বা তাদের স্বজনদের কাছ ঘুষ গ্রহণ করেনি। আসলেই সে বড় ভালো মানুষ! যাকে নিয়ে এতো কথা সেই কারারক্ষী, বর্তমানে নেত্রকোণা জেলখানায় কর্মরত, সুহেল রানা ঘুষ না খাওয়ার ব্যাপারে বলেন, ঘুষকে আল্লাহ তায়ালা হারাম করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্র ঘুষের উপর শাস্তিযোগ্য বিধান রেখেছেন। সমাজের মানুষও ঘুষখোরকে ঘৃণা করে, নিন্দা করে। এতোকিছুর পরেও কোনো মমিন মুসলমানের কি ঘুষ খাওয়া কি উচিৎ।