আগের দলে ফিরতে পারেন মমতা-পাওয়ার

কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গঠিত ছোট দলগুলো আবারও মূল দলে ফিরে আসতে পারে বলে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং শরদ পাওয়ারের জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি-এসপি) কংগ্রেসে একীভূত হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ছড়িয়েছে। যদিও কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল তৃণমূলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনা ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে মহারাষ্ট্র কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা নানা পাটোলে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সমমনা দলগুলো কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নানা পাটোলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শরদ পাওয়ার ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসে একীভূত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি কোনো জোট নয়, বরং একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া।’ পাটোলে দাবি করেন, শরদ পাওয়ারের পক্ষ থেকে এনসিপির কংগ্রেসে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব আগেই দেয়া হয়েছিল, তবে বিভিন্ন কারণে তা বিলম্বিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এনসিপি এবং পাওয়ার সাহেবের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি আগেও দেয়া হয়েছিল, কিন্তু কিছু কারণে তা বিলম্বিত হয়। কিন্তু আমার মনে হয়, দেশের রাজনীতিতে ভোটের ব্যাপক বিভাজন রোধ করতে ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী আদর্শের সব দলের এক হওয়া উচিত।’ পাটোলে আরও বলেন, ‘এই প্রক্রিয়া এখন জাতীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে এবং তৃণমূল কংগ্রেস হোক বা পাওয়ার সাহেব, সবাই এখন কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।’ কয়েক দিন আগে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউতও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। তিনি শরদ পাওয়ারকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গঠিত ছোট দলগুলোকে আবার মূল দলে ফিরিয়ে আনার সময় এসেছে। রাউতের ওই প্রস্তাবকে ‘ভালো প্রস্তাব’ বলে মন্তব্য করেছিলেন শরদ পাওয়ারের মেয়ে ও এনসিপি-এসপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে। তবে তিনি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো অবস্থান জানাননি। এদিকে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা ও রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও ছোট দলগুলোর কংগ্রেসে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে গঠিত আঞ্চলিক দলগুলোর আবার ফিরে আসার সময় এসেছে। তাদের উচিত আন্তরিকভাবে রাহুল গান্ধীকে নেতা হিসেবে মেনে নেয়া।’

কংগ্রেস ছেড়ে আলাদা পথচলা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন। অন্যদিকে ১৯৯৯ সালে শরদ পাওয়ার, পি এ সাংমা এবং তারিক আনোয়ার মিলে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তারিক আনোয়ার আবার কংগ্রেসে ফিরে যান। ২০২৩ সালে শরদ পাওয়ারের ভাতিজা অজিত পাওয়ার বিদ্রোহ করে এনসিপির নাম ও প্রতীক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে তৃণমূলও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

তৃণমূলের সঙ্গে বৈঠক ঘিরে জল্পনা
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল ও কংগ্রেস নেতৃত্বের ধারাবাহিক বৈঠকের পর এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। গত মঙ্গলবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পরদিন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক করেন। সূত্রের দাবি, ওই বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নেয়ার বার্তাও দেন। তবে কংগ্রেস স্পষ্ট করেছে, একীভূত হওয়ার কোনো প্রস্তাব এলে তা তৃণমূলের পক্ষ থেকেই আসতে হবে। দলটি নিজে থেকে এমন কোনো উদ্যোগের জন্য জোর করছে না।