ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের তোড়জোড়

ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এবার বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং ও বিমান যোগাযোগ সীমিত করতে দেশগুলোর ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। ইরাকি বার্তা সংস্থা শাফাক নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার বেসেন্ট জানান, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তুরস্ক ও ওমান ইরানের মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সব ফ্লাইট বন্ধ করেছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ইউএই ও তুরস্কের শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইরানের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করেছে বলেও জানান মার্কিন অর্থমন্ত্রী। গত ২৪ আগস্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো ইরানের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো বন্ধ করে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানো। এদিকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এই অভিযানের আওতায় ইরানের তেল পাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানো এবং অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত নেটওয়ার্কগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে ইউএই ভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ পরে বিশ্বের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ইরানের অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সঙ্গে যুক্ত অর্থের প্রবাহ ও পণ্য সংগ্রহের নেটওয়ার্ক বন্ধে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোকে সহায়তা করা। ওয়াশিংটনের এই চাপের ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ও ব্যাংকিং খাতে কার্যক্রম আরও সীমিত হচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করছেন। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপের বিরোধিতা করে। সূত্র: শাফাক নিউজ