ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা দলীয় পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে না। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন সহায়তা’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমির খসরু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ডেলিভারির পাইলট প্রকল্পে ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি বা ভুল হয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ ত্রুটির হার অত্যন্ত নগণ্য এবং প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণে দুর্নীতি ও অপচয় রোধে দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হলে সঠিক উপায়ে এবং দক্ষতার সঙ্গে ত্রাণ ও সহায়তা বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে বিতরণের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অপচয় ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে অনেক ক্ষতি হয়ে থাকে। সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর যৌথ অংশীদারত্বে নতুন অর্থনৈতিক মডেলেও কাজ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিকভাবে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এরপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, প্রতিবন্ধীদের সহায়তা ও অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমে এনজিও ও বেসরকারি খাতকে যুক্ত করা হচ্ছে। সরকারি সম্পদের সঙ্গে তাদের সম্পদ যুক্ত করে সার্বিক পুনর্বাসনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের একার পক্ষে সবকিছু সঠিকভাবে বিতরণ করা বড় একটি সমস্যা। এতে দুর্নীতি ও অপচয় হয়। তবে ডেলিভারি ব্যবস্থায় বেসরকারি খাত ও এনজিও যুক্ত থাকলে কাজ দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয় এবং অপচয় ও দুর্নীতি কমে আসে বা বন্ধ হয়। বন্যা-পরবর্তী কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পাননি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আনন্দিত যে, আজকের এই বন্যা-পরবর্তী সময়ে এখন পর্যন্ত আমার জানা মতে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আসেনি। পত্র-পত্রিকায় বা কোথাও আমি এমন কোনো অভিযোগ দেখিনি। ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দক্ষ ডেলিভারি সিস্টেম কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থা সরকারের অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধে তদারকির ভূমিকা পালন করছে। ব্র্যাকসহ বিভিন্ন সংস্থা এ উদ্যোগে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের সঠিক পুনর্বাসন না হলে প্রকৃত সহায়তা হয় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আমিরুল হক চৌধুরী, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়নি: অর্থমন্ত্রী
