দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনকে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছেন ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় বিভাগের মূল ফটকে ‘ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন’ লেখা প্ল্যাকার্ড টানিয়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। সুজন সেনের বিরুদ্ধে তদন্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে শাস্তির পরিমান পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি বাস্তবায়নে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী আছিয়া খাতুন বলেন, আমরা দীর্ঘ দুই বছর ধরে ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করে আসছি। প্রশাসনের কাছে আমরা প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রও দিয়েছি। তদন্ত কমিটি তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুতির সুপারিশ করলেও সিন্ডিকেট তাকে পাঁচ বছরের অব্যাহতি দিয়েছে, যা আমরা শাস্তি হিসেবে মানি না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের বিষয়ে প্রশাসনের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত চাই। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। একই বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদ সাদিক রাফি বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি স্থায়ী বরখাস্তের সুপারিশ করলেও তাকে পাঁচ বছরের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ার পরও আত্মসাতের অর্থের পরিমাণ, ফৌজদারি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং অযোগ্য অবস্থায় নেওয়া বেতন-ভাতার বৈধতা নিয়ে প্রশাসন কোনো জবাব দেয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েও আমরা পাইনি। তাই আমরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেছি। দাবি পূরণ না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, সুজন সেন সম্পর্কে আমাদের কাছে এখনো অফিসিয়াল কোনো পত্র আসেনি। গত সিন্ডিকেটে যে তথ্যগুলো আমরা পেয়েছি, সেগুলো ছাড়া অফিসিয়ালভাবে এখন পর্যন্ত আমাদেরকে কিছু জানানো হয়নি। তাই তার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। গত বছরের ২৫ আগস্ট ড. সুজন সেনকে বিভাগে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। একই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগের সভাপতির কাছে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণসহ প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার একটি লিখিত অভিযোগ দেন তারা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে অস্থায়ী বহিষ্কারের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থা করে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে ওই শিক্ষককে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
