শিল্পনগরী গাজীপুর জেলায় গ্যাস সংকটে ১৫ শতাংশ কারখানায় উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে, উৎপাদন কমে গেছে ৪০ শতাংশ। গতকাল রোববার দুপুরে গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে গ্যাস সংকটের বাস্তব চিত্র আরও ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন কারখানা সংশ্লিষ্ট শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গ্যাস সংকটে কর্মহীন অবস্থায় দিন পার করতে হচ্ছে অনেক শ্রমিককে। চাকরি হারানোর শঙ্কাও দেখা দিয়েছে তাদের মাঝে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে অনেক কারখানার মালিক ও কর্মকর্তারা অনীহা প্রকাশ করেছেন। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে গাজীপুরের কোনাবাড়ি ফুয়াদ স্পিনিং মিলস্ লিমিটেড কারখানা। এতে ওই কারখানার প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে অব্যাহত লোকসান গুনতে হচ্ছিল কারখানা কর্তৃপক্ষকে। কারখানার ডিজিএম আজিজুল হক জানান, কারখানাটিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক শ্রমিক কর্মরত ছিল। গ্যাস সংকটের কারণে কয়েক মাস ধরে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। শ্রমিকদের কয়েক মাস বসিয়ে বসিয়ে বেতন ভাতা দেওয়া হয়েছে। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া থেকে ঠেকাতে আগস্ট মাসের ১ তারিখে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। গ্যাসের পরিস্থিতির উন্নতি হলে কারখানা খুলে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সাদমা ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল রানা বলেন, চলমান গ্যাস সংকটে বেশি প্রভাব পড়ছে তাদের ডাইং সেকশনে। গ্যাসের প্রেসার না থাকায় শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রেখে বসে বসে সময় পার করতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে গ্যাসের চাপ ফিরলে উৎপাদন শুরু করা গেলেও বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেডের এজিএম রবিউল ইসলাম বলেন, গ্যাস সংকটে উৎপাদন কমেছে, কারখানার স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটছে। বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে গাজীপুরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার ডিভাইন টেক্সটাইল মিলস্ লিমিটেড নামের কারখানাটি। এ বিষয়ে কারখানায় যোগাযোগ করা হলেও দায়িত্বশীল কেউই কথা বলতে রাজি হননি। গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন পিপিএম বলেন, বন্ধের অফিসিয়াল তথ্য আমাদের কাছে নেই। কিন্তু আমরা রিপন গার্মেন্টস নামে একটি কারখানা বন্ধের নোটিশ পেয়েছি। তারা উল্লেখ করে নোটিশ দিয়েছে গ্যাসের প্রেসার কম হওয়ার কারণে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে আপাতত সাময়িক ছুটি ঘোষণা করেছে। শ্রমিকদের যোগাযোগ রাখতে বলেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এর বাইরে গ্যাসের কারণে বন্ধ এমন নোটিশ বা অফিসিয়ালি ঘোষণা করে নাই। তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে তাদের কাজ কম হচ্ছে, উৎপাদন কম হচ্ছে- এমন খবর আমাদের কাছে আছে। আমাদের সার্ভে চলছে। আমাদের টিমগুলো সব কারখানায় যাচ্ছে, কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, আমরা খোঁজ খবর রাখছি। তবে কারণ উল্লেখ করে নোটিশ না দিলে তো আমরা বলতে পারবো না। গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কিছু কারখানায় গ্যাসের প্রেসারের কারণে কাজ বিঘ্ন ঘটছে, সেটা আমরা জানি। সেটার সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ ভাগ। গ্যাস সংকটের কারণে ১৫ ভাগ কারখানায় উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটছে, উৎপাদন প্রায় ৪০ ভাগ কমে গেছে। তবে একটি বাদে গ্যাস সংকটের কারণে কারখানা পুরো বন্ধ করে দিয়েছে এমন তথ্য আমাদের কাছে নাই। গাজীপুরে ৩ হাজারের বেশি ছোট-বড় কারখানা আছে। এর মধ্যে থেকে গাজীপুরের ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ কারখানায় গ্যাসের কারণের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের বর্তমান অবস্থা জানতে তিতাস গ্যাস গাজীপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোস্তফা মামুনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে একই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক (ডিস্ট্রিবিউশন) সাইফুজ্জামান সানি বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবেই গ্যাসের চাপ কম থাকায় গাজীপুরের চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম রয়েছে। যার কারণে গ্যাস লাইনের শেষের দিকে থাকা কারখানাগুলো সঠিকভাবে গ্যাস পাচ্ছে না। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি করতে কাজ করছে।
গাজীপুরে গ্যাস সংকটে উৎপাদন কমেছে ৪০ শতাংশ
