জামালপুর এপির বার্ষিক শিখন সমাবেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা
স্বাস্থ্য, ওয়াস, পুষ্টি এবং প্রাথমিক শিক্ষাসহ শিশুদের সর্বোত্তম সুরক্ষায় সমন্বিত প্রকল্প কাঠামোকে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্য নিয়ে জামালপুর এরিয়া প্রোগ্রাম (এপি) এর বার্ষিক শিখন সমাবেশ জামালপুরে অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর জামালপুর ইউএস চাইল্ড সিটিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উন্নয়ন সংঘের মানবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক জাহাঙ্গীর সেলিম। ওয়ার্ল্ড ভিশন ও উন্নয়ন সংঘের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন জামালপুর এপির বার্ষিক শিখন সমাবেশে প্রধান আলোচক ছিলেন সিনিয়র এপিসিও ম্যানেজার অরবিন্দ সিলবেস্টার গোমেজ। অন্যান্যের মাঝে আলোচনায় অংশ নেন উন্নয়ন সংঘের পরিচালক কর্মসূচি মুর্শেদ ইকবাল, এপি ম্যানেজার মিনারা পারভীন, ওয়ার্ল্ড ভিশন এপির ফিন্যান্স অফিসার তুলি ডি কস্তা, টেকনিক্যাল ম্যানেজার লাইভলিহুড ইফতেখার উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। সমাবেশে উন্নয়ন সংঘ ও ওয়ার্ল্ড ভিশনে কর্মকর্তা, কর্মী, সিএফসহ শতাধীক প্রতিনিধি অংশ নেন। সমাবেশে বিভিন্ন পর্যায়ের কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটরগণ গত এক বছরের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বিভিন্ন সফলতার গল্প তুলে ধরেন। একই সাথে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কীভাবে লক্ষপূরণে ভূমিকা রেখেছেন সেসব কৌশলগুলোও উল্লেখ করেন তারা। পাশাপাশি আগামী বছরে প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে নানামূখী উপস্থাপন করা হয়। সভাপতির বক্তব্যে জাহাঙ্গীর সেলিম কার্যক্রম পরিবীক্ষণ করতে গিয়ে কাছ থেকে দেখা অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে বলেন বিপদাপন্ন শিশুদের প্রতি গুরুত্বারোপ, সহনশীলতা, নিজস্বতা বোধ তৈরি, সবুজ বিদ্যালয়, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্ব্যসম্মত এবং পরিবেশবান্ধব গ্রাম গঠনের কার্যক্রম, শিশু ও কিশোরদের মাধ্যমে সৃষ্টিশীল কাজের উদ্যোগ গ্রহণ, গণজাগরণমূলক বিভিন্ন প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্য সরবরাহ, নেটওয়ার্কিং, অ্যাডভোকেসি, শিশুশ্রম থেকে মুক্ত করে পুণরায় বিদ্যালয়ে ভর্তি করা, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধ, সামাজিক সংহতি, বাল্যবিয়েমুক্ত গ্রাম প্রতিষ্ঠা, জেন্ডার সমতা, কৃষি উৎপাদনে আধুনিকায়ন, পুষ্টি উন্নয়নে নানামুখী উদ্যোগ, কমিউনিটি এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, ফাইভ জিরো প্লাসসহ বহুমাত্রিক কাজের সমাহার ঘটিয়ে জামালপুর এপি স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের উদাহরণ তৈরি করেছে। তিনি বলেন আইপিএফ এর জন্য কমিউনিটির সদস্যদের সম্পৃক্তকরণ, সেবাদাতাদের উপকারভোগীদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা করা, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিদের কাছে এপির গুরুত্ব এবং প্রতিটি কাজ প্রশংসা ও সমাদৃত হয়েছে। প্রধান বক্তা এপিসিও ম্যনেজার অরবিন্দ এস. গোমেজ বলেন জামালপুর এপির টিমস্প্রিরিট অসাধারণ এবং প্রশংসার দাবী রাখে। অনেক অনেক ভালো কাজের উদাহরণ তৈরি হয়েছে। একেকটি সফলগাঁথা নিয়ে গল্প তৈরি হতে পারে। বাল্যবিয়ে, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া এবং শিশুশ্রমমুক্ত উপজেলা ঘোষণায় সিএফ এবং এপি স্টাফদের ভূমিকা ছিল অনবদ্য। তিনি বলেন জামালপুর এপি দেশে শ্রেষ্টত্ব অর্জন করার মতো সকল সুযোগ ও সক্ষমতা রয়েছে। গত এক বছরের গ্যাপগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পনামাফিক কাজ করলে লক্ষপূরণ সম্ভব।সমাবেশ শেষে নিজেদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণ করা হয়।