জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব সংবাদদাতা
চিকিৎসাসেবার মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের মধ্যদিয়ে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামালপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ্ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন।
১১ মে সোমবার হাসপতালের প্রশাসনিক ভবনের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সহকারী পরিচালক ডাঃ মাহফুজুর রহমান। এতে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন জামালপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদ, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আজিজুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল রাকিবুল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন জামালপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক ডাঃ আহমদ আলী আকন্দ, জেলা গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান, আরএমও ডাঃ তরিকুল ইসলাম, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএ জলিল, প্রেসক্লাব জামালপুরের সভাপতি মুখলেছুর রহমান লিখন, উন্নয়ন সংঘের মূনবসম্পদ উন্নয়ন পরিচালক ও বাংলারচিঠি ডটকমের সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম, সিনিয়র নার্স সামিনা খাতুন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহবুবা আজমেরী হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আইনজীবী শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ থাকার কারণে ডাক্তার, নার্সদের সেবাদানে অনেক সময় অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপরও আপনাদের ব্যবহারে যেন সাধারণ রোগীরা কষ্ট না পায় এজন্য সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জামালপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হলে রোগীর চাপও কমবে, সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মানের কাজ শুরু হবে বলে সংসদ সদস্য মামুন সভায় আশ্বস্ত করেন।
সংসদ সদস্য ওয়ারেছ আলী মামুন প্রতি সপ্তাহের একদিন হাসপাতালের সুইপার থেকে শুরু করে সহকারী পরিচালকসহ ৩৫৮ জন স্টাফ হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান।
তিনি হাসপাতালের কার্যক্রম অধিকতর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিমাসে সভা আয়োজন করার আহবান জানান। বিশেষ প্রয়োজনে মাসে একাধীক সভা করা যেতে পারে। ছোট খাট মেরামতসহ জরুরি প্রয়োজন মিটাতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে অথবা হাসপাতালের নিজস্ব তহবিল গঠন করার নির্দেশনা দেন। এ জন্য ছোট একটি কমটি গঠনেরও পরামর্শ দেন।
তিনি গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীকে হাসপাতালে সর্বোচ্চ তহবিল আনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে সেখানে বহুতল ভবন নির্মানের প্রস্তাবনা তৈরি ও মন্ত্রণালয়ে নিবিড় যোগাযোগের তাগিদ দেন। এ ব্যপারে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন আশ্বস্ত করেন।
সভায় ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, রোগীর সাথে আসা একাধীক স্বজনদের নিয়ন্ত্রণ করা, দালাল নিয়ন্ত্রণ করা, পানি নিষ্কাশন করা, শুন্যপদ পূরণের ব্যবস্থা করা, অজ্ঞাত রোগীদের জন্য আলাদা কক্ষ ও দেখভালের জন্য আলাদা লোক নিয়োগ করা, হলুদ সাংবাদিকদের অপতৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সবগুলো প্রেসক্লাবের কাছ থেকে প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা সংগ্রহ করা, বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা, সাতদিনব্যপী ২৪ ঘন্টাই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করা, বেসরকারি এম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ করাসহ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভার শুরুতে সংসদ সদস্য ওয়ারেছ আলী মামুনকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
উল্লেখ সদর আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পদাধীকার বলে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক। সরকারি, বেসরকারি ও বিভিন্ন শ্রেণি, পেশার ব্যক্তিদের নিয়ে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে।