চব্বিশের জুলাই আন্দোলন চলাকালে প্রথমেই ইন্টারনেট ধীর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তবে এ নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমতি নেওয়ার কথা জানান সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাদের-পলকের এমনই একটি ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করেছে প্রসিকিউশন। গতকাল রোববার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক চলে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তি উপস্থাপন হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সুলতান মাহমুদ ও প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। এছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। ফোনালাপটিতে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, নেটটা একটু স্লো করে দাও। জবাবে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নেই? কাদের তখন বলেন, নিয়ে নাও। পরে কাদেরের সঙ্গে কথোপকথনে পলক আবার জানান, শেখ হাসিনার অনুমতি নিয়েই বিষয়টি করতে হবে। প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কাদের ও পলকের কথোপকথনটি এ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। পলক-কাদেরের ফোনালাপের অনুলিপিটি পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো- জুনাইদ আহমেদ পলক: ভাই, আসসালামু আলাইকুম। ভাই, আসসালামু আলাইকুম। জি, আসসালামু আলাইকুম ভাই। পলক বলছি। ওবায়দুল কাদের: নেটটা একটু স্লো করে দাও। জুনাইদ আহমেদ পলক: জি। ওবায়দুল কাদের: ইন্টারনেট। জুনাইদ আহমেদ পলক: একটু নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নিই? ওবায়দুল কাদের: নিয়ে নাও। জুনাইদ আহমেদ পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি, আচ্ছা ঠিক আছে। ওবায়দুল কাদের: অনেকে আমাকে বলতেছে তো বিষয়গুলো…। জুনাইদ আহমেদ পলক: হ্যাঁ, একটু… ওই যে… মানে… বলা আছে তো যে উনি না বললে… মানে…। ওবায়দুল কাদের: না না, উনাকে জিজ্ঞেস করেই বলবা। জুনাইদ আহমেদ পলক: আচ্ছা, ঠিক আছে। জি। জি স্যার, জি স্যার। জি, আসসালামু আলাইকুম। এর আগে গত ৬ আগস্ট ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের একটি ফোনালাপ দাখিল করা হয়। কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের মারার জন্য উসকে দিয়ে উৎসাহিত করেন কাদের। এ মামলায় মোট আসামি সাতজন। ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্যরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। তবে আসামিরা সবাই পলাতক।
পলককে ফোন করে ইন্টারনেটের গতি কমাতে বলেছিলেন ওবায়দুল কাদের
