আজ ডেস্ক
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা ১২টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে পশ্চিম অঞ্চলে ৬টি ইউনিয়ন যমুনা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষকরা অনুপস্থিতির কারণে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চরাঞ্চলের শিশুরা। এছাড়া উপজেলার পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায় মোহাম্মদপুর বালুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা ৫৭ জন উপবৃত্তি পায় ৪২ জন। এই ৫৭জন শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক মোট ৬ জন। এই ৬জন শিক্ষকের মধ্যে পাঠদান করাচ্ছেন মাত্র ২জন। অবশিষ্ট ৪জন শিক্ষক অনুপস্থিত। শ্রেনীকক্ষে দেখা যায়, ৫৭ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিশু শ্রেণী ১৬ জনের মধ্যে উপস্থিত ৯ জন, প্রথম শ্রেণীর ১২ জনের মধ্যে ৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীর ১০ জনের মধ্যে ৮ জন, তৃতীয় শ্রেণীর ৭ জন এর মধ্যে ৭জন, চতুর্থ শ্রেণি ৭ জন এর মধ্যে ৫জন এবং পঞ্চম শ্রেণীর ৫ জনের এর মধ্যে ৫ জন। মোট ৪৩জন শিক্ষার্থী উপস্থিত রয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিচ্ছেন মাত্র দুইজন শিক্ষক। অবশিষ্ট ৪ জন শিক্ষক বেলা দেড়টায় রয়েছেন অনুপস্থিত। বিদ্যালয়ে ৫৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে উপবৃত্তি পাচ্ছেন মোট ৪২জন। অবশিষ্ট ১৫জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তি না পাওয়ার কারণ কি?জানতে চাইলে শিক্ষকরা জানায় উপবৃত্তি পাইতে হলে শিক্ষার্থীদের পিতা/মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার দিয়ে বিকাশ/নগদ নাম্বার তার সাথে শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন সঠিক থাকতে হয়। এসব দিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অনলাইন সুনিদিষ্ট তারিখ ও সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হয়। নিদ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সারা দেশ থেকে আবেদনের কাজ চলে তাই অনেক সময় ওয়েবসাইড হ্যাং হয়ে গেলে আবেদন করা সম্ভব হয়না। আবার আনেক অভিভাবক রয়েছেন তাদের ছেলে-মেয়েদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক সময়ে দাখিল করতে পারেন না। তাই শিক্ষা অধিদপ্তরে নিদ্দেশ অনুযায়ী সময় পেরিয়ে গেলে অনলাইনে আবেদন বন্ধ হয়ে যায়। এসব কারণে তারা উপবৃত্তিত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন এর কাছে ৬জন শিক্ষকের মধ্যে উপস্থিত মাত্র ২জন অবশিষ্ট ৪জন শিক্ষক তারা কোথায় এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এর জবাব উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস চাইলে দেব। কিন্তু সাংবাদিক কেন?এব্যাপারে এলাকার সুধী মহল মনে করেন ৫৭ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৬ জন শিক্ষক রয়েছে সেখানে একটি আদর্শ অনুপাত হওয়ার কথা প্রায় প্রতি ১০ জন ছাত্রের জন্য ১ জন শিক্ষক। সেখানে ৬জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ২ জন শিক্ষকের উপস্থিত থাকা শিক্ষার পরিবেশকে মারাত্মক ভাবে ব্যাহত করছে। এ েিনেয়এলাকার সূধি মহল অত্যন্ত দু:খজনক এবং উদ্বেগজনক বিষয় বলে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার বুনিয়াদ দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি। সর্বোপরি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বায়োমেট্রিক বা ডিজিটাল হাজিরার যে নিয়ম রয়েছে, তা কঠোরভাবে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি। এছাড়া ইসলামপুর উপজেলার বেশকিছু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরেজমিন খোঁজ নিয়ে দেখাযায় সভারচর পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ১০৬ জন উপবৃত্তি পায় ৮৬ জন। শিশু শ্রেণির ১৫ জন এর মধ্যে উপস্থিত ছিল ৮ জন, প্রথম শ্রেণির ২০ জনের মধ্যে ১৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীর ২০ জন এর মধ্যে ১৭ জন, তৃতীয় শ্রেণীর ১৭ জনের মধ্যে ৮ জন, চতুর্থ শ্রেণীর ১৯ জনের মধ্যে ৮ জন, পঞ্চম শ্রেণীর ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন। প্রধান শিক্ষক রেজাউল ইসলামকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষকরা জানায় তিনি আসেননি। ৩৩ নং পাঁচবারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থী ১০২ জন উপবৃত্তি পায় ৪৪ জন। শিশু শ্রেণীর ১৬ জন এর মধ্যে উপস্থিত ছিল ১১ জন, প্রথম শ্রেণীর ২০ জন এর মধ্যে ৮ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীর ১৬ জনের মধ্যে ১৫ জন, তৃতীয় শ্রেণীর ১৭ জন এর মধ্যে ১৩ জন, চতুর্থ শ্রেণীর ১৩ জন এর মধ্যে ১৩ জন, পঞ্চম শ্রেণীর ২০ জনের মধ্যে ২০ জন। ৩৪ নং পচাবহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১১৮ জন এরমধ্যে উপবৃত্তি পায় ৯৮ জন শিশু শ্রেণী উপস্থিত ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জন, প্রথম শ্রেণীর ২১ এর মধ্যে ১৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীর ২২ এর মধ্যে ১৯ জন, তৃতীয় শ্রেণীর ২০ এর মধ্যে ১৭ জন, চতুর্থ শ্রেণী ১৭ মধ্যে ১৪ জন, পঞ্চম শ্রেণীর ২৪ এর মধ্যে ২২ জন উপস্থিত পাওয়া যায়। উপজেলার এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখাযায়। ৫০ নং বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা ১৪২ জন। শিশু শ্রেণীর ২৯ জন এর মধ্যে উপস্থিত ২৩ জন, প্রথম শ্রেণীর ৩২ জন এর মধ্যে ২৯ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীর ২০ জন এর মধ্যে ১৯ তৃতীয় শ্রেণীর ২৭ জন এর মধ্যে ২৫ জন, চতুর্থ শ্রেণীর ১৫ জন এর মধ্যে ১৪ জন পঞ্চম শ্রেণীর ১৯ জন এর মধ্যে ১৬ জন। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার বলেন স্কুলের ছাত্র সংখ্যা আরো বেশি ছিল কিন্তু তিনটা মাদ্রাসা হওয়ার কারণে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা দিন দিন কমে গেছে। নান্দেকুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর মোট ছাত্র ছাত্রী ৮২ জন উপবৃত্তি পায় ৪২ জন। শিশু শ্রেণী ২৫ জনের মধ্যে উপস্থিত ১৮জন, প্রথম শ্রেণীর ১০ জনের মধ্যে ৯ জন দ্বিতীয় শ্রেণী ১০ জনের ৮জন তৃতীয় শ্রেণি ১২ জন এর মধ্যে ১০ জন, চতুর্থ শ্রেণি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন, পঞ্চম শ্রেণী ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন উপস্থিত ছিল। ৫৯ নং মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ১২৩ ও উপবৃত্তি পায় ৮৭ জন। শিশুশ্রেনীর ১৮ মধ্যে উপস্থিত ১২ জন, প্রথম শ্রেণী ১৫ এর মধ্যে ১৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণীর ১৯ জনের মধ্যে ১৪ জন, তৃতীয় শ্রেণি ৩০ এর মধ্যে ৯জন, চতুর্থ শ্রেণী ২৫ এর মধ্যে ১৪ জন, পঞ্চম শ্রেণী ১৮ জনের মধ্যে ১০ জন উপস্থিত পাওয়া যায়। ইসলামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহান্নারা বেগম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়টি আমার জানাছিল না। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান।
ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাদানে বেহালদশা
